সোমবার (৩ নভেম্বর) সরেজমিনে শিবগঞ্জের দেউলী, মধুপুর ও আশপাশের ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা জমির ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। কারেন্ট পোকার ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে, ধানের গোড়া নষ্ট হচ্ছে। কৃষকদের ধারণা, এভাবে ক্ষতি চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
কৃষকরা জানান, এবছর আমন মৌসুমের শুরুতে পানি সংকট বা চারা রোপণে তেমন সমস্যা ছিল না। তবে সারের দাম ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। তবুও তারা কষ্ট করে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ কারেন্ট পোকার আক্রমণে সেই সব পরিশ্রম যেন মাটিতে মিশে যাচ্ছে।
উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের কৃষক মজনু প্রামাণিক বলেন, “ধানগাছ শুরু থেকে ভালোই ছিল। তিন দিন মাঠে যেতে পারিনি, এর মধ্যেই কারেন্ট পোকা সব শেষ করে দিয়েছে। দিনে দুইবার ওষুধ স্প্রে করছি, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। গাছের গোড়া থেকে শুকিয়ে যাচ্ছে। এভাবে ক্ষতি হলে খরচই উঠবে না।”
দেউলী কারিগরপাড়ার কৃষক জাকির হোসেন বলেন, “আমার জমিতে একদিকে ইঁদুর, অন্যদিকে কারেন্ট পোকার আক্রমণ। তাদের অত্যাচারে আমরা দিশেহারা। বাজারে অনেক কোম্পানির ওষুধ আসছে—কোনটা আসল, কোনটা নকল বুঝা যায় না। অনেক সময় নকল ওষুধ কিনে টাকা নষ্ট করছি, কিন্তু ফসলের কোনো লাভ হচ্ছে না।”
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় বাজারে অনেক সময় ভেজাল কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে, ফলে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই কৃষি অফিসের পরামর্শ না নিয়ে নিজের মতো করে ওষুধ দিচ্ছেন, যা উল্টো ফল দিচ্ছে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “কারেন্ট পোকা দমনে কৃষকদের সচেতন করতে আমরা প্রতি ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক করছি। ধান রোপণের সময় গাছের দূরত্ব কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি রাখতে হবে, যাতে আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। ওষুধ প্রয়োগের সময় ধানের গোড়া ফাঁক করে স্প্রে দিতে হবে, যেন তা গোড়ায় পৌঁছায়। তাহলে পোকার আক্রমণ থেকে ধান রক্ষা পাওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টির পর কারেন্ট পোকার উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই আমরা কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও সঠিক সময়ে কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করেছে।”
এদিকে, প্রান্তিক কৃষকরা সরকারের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা ও ভেজালবিরোধী অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে কারেন্ট পোকার প্রকোপ থেকে ফসল বাঁচিয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফেরা যায়।
আকাশজমিন
/ আরআর