আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটে দেখা গেছে ভোটারদের অভূতপূর্ব সাড়া। শহরের নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টা) আনুমানিক ১৭ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এটি গত ৩০ বছরে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
১৯৯৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ১৯ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী রুডি জুলিয়ানি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ডিনকিনসকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে এমন উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ আর দেখা যায়নি।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন আগাম ভোট দিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে নিউইয়র্ক শহরে সর্বোচ্চ আগাম ভোটের রেকর্ড। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে আগাম ভোটের এই সংখ্যা শহরের নাগরিকদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও আগ্রহের প্রতিফলন।
নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় এবং শেষ হয় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টা)। এর পরপরই শুরু হয় ভোট গণনা। নির্বাচন দিবসজুড়ে শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছে।
শহরের অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় ভোট দেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি। নির্বাচনী প্রচারে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বাসস্থানের সংকট নিরসন এবং শহরবাসীর দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সমাধানের অঙ্গীকার করেন। তরুণ ভোটারসহ নানা বয়সী নাগরিকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পান তিনি। সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতিতে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে ভোট দেন। তিনি বলেন, “নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের আগ্রহই আজকের এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
জনমত জরিপ অনুযায়ী, মেয়র নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন জোহরান মামদানি। গত বৃহস্পতিবারের এমারসন কলেজ/পিআইএক্স ১১/দ্য হিলের জরিপে দেখা যায়, মামদানি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোর চেয়ে প্রায় ২৫ পয়েন্ট এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার চেয়ে প্রায় ২৯ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।
নিউইয়র্কের রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিপুল ভোটার উপস্থিতি শুধু মেয়র নির্বাচনের গুরুত্বই নয়, শহরের নাগরিকদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশাকেও প্রতিফলিত করে।
আকাশজমিন / আরআর