নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন জোহরান মামদানি। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম ও প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে ছিল ভয়ংকর এক সময়। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে তিনি ও তার পরিবার প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছিলেন।
মামদানি জানান, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই তাকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি ফোনে ভয়েসমেল ও বার্তা পাঠিয়ে হুমকি দেন।
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মামদানিকে ভয় দেখিয়ে একাধিক ভয়েসমেল এবং লিখিত বার্তা পাঠান। সেখানে তাকে বলা হয়েছিল, “কেউ মাথায় গুলি করার আগেই উগান্ডায় ফিরে যাও।”
অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু মামদানিই নয়, তার পরিবারের প্রতিও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি মামদানির ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যও করেন।
গত সেপ্টেম্বরে ওই ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ জানায়, মামদানির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ইতিহাস গড়েছেন জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচনে ৯১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৫১ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমো পেয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ভোট, আর রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস সিলওয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৭ ভোট।
অর্থাৎ, মামদানি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ১৯৬৫ সালের পর নিউইয়র্কের কোনো মেয়র প্রার্থী এত বেশি ভোট পাননি।
জোহরান মামদানি উগান্ডা-জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মার্কিনি। তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে প্রগতিশীল নীতি ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে সরব একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। তার নির্বাচনী জয়কে নিউইয়র্কবাসী বৈচিত্র্যের বিজয় হিসেবে দেখছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তার এই সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে সংখ্যালঘু নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে।
— অনলাইন ডেস্ক