ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বাংলাদেশে কেন এত জনপ্রিয় নিউ ইয়র্কের মুসলিম মেয়র মামদানি


নিউ ইয়র্কের মুসলিম মেয়র মামদানি

  • আপলোড সময় : বুধবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৭:৩১ পিএম

আকাশ জমিন ডেস্ক 

একজন জনপ্রতিনিধির কাছে ভোটারদের প্রত্যাশা থাকে— মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোটারদের মন জয় করেছেন। তবে প্রশ্ন হলো— আটলান্টিকের ওপারের এই তরুণ বাংলাদেশিদের হৃদয়ে জায়গা পেলেন কীভাবে?

 

বুধবার সকালে তাঁর জয়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দনের ঢল নামে। অসংখ্য পোস্টে এক বাক্যই ঘুরে বেড়াচ্ছিল— “নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র”। কিন্তু কেবল মুসলিম পরিচয়ই কি তাঁকে দক্ষিণ এশীয়দের কাছে জনপ্রিয় করেছে? নাকি এর পেছনে আছে ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্স’ ও প্রতিনিধিত্বের রাজনীতি?

 

জোহরান মামদানি উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও নিজেকে দক্ষিণ এশীয় মুসলিম বলে পরিচয় দেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় নিউ ইয়র্কের রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি, গণপরিবহনে ভ্রমণ, ও বাংলা শব্দ ব্যবহার করে বক্তৃতা— এসব তাঁকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের প্রবাসীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিকভাবে যুক্ত করেছে।

 

এই সংযোগটি ব্যাখ্যা করতে সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ নিজের মতো মানুষের প্রতি সহজাত সহানুভূতি তৈরি করে। মামদানির মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় পরিচয় সেই দলগত সংযোগকে আরও মজবুত করেছে। বাংলাদেশিদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন ‘আমাদেরই কেউ’।

 

তবে শুধু ধর্ম বা জাতিগত সংযোগ নয়, তাঁর রাজনীতির দর্শনও এই আকর্ষণের অন্যতম কারণ। জোহরান নিজেকে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং করপোরেট অনুদান ছাড়া জনগণের দানে পরিচালিত প্রচারণা চালান। তিনি নিউ ইয়র্ককে শুধু ধনীদের নয়, শ্রমজীবী মানুষের শহর হিসেবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

নিউ ইয়র্কের উচ্চ ভাড়াব্যয়, শিশুর যত্ন, পরিবহন সংকট এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনের বাস্তবতা নিয়ে তাঁর বক্তব্য তরুণ ও অভিবাসী ভোটারদের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮-৩৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ছিল সর্বাধিক।

 

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতি ও বর্ণবাদী মনোভাবের বিরোধিতা করে মামদানি অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, “নিউ ইয়র্ক সবার শহর— কেবল সুবিধাভোগীদের নয়।” এই বক্তব্যই তরুণ ও প্রগতিশীল নাগরিকদের আবেগে নাড়া দিয়েছে।

 

মামদানি লাতিনো, আফ্রিকান-আমেরিকান, ইহুদি, ভারতীয় ও বাংলাদেশি— সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁর প্রচারণায় বাংলা ভাষার স্লোগানও শোনা গেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, আন্তরিক প্রতিনিধিত্ব সীমান্ত মানে না।

 

এ কারণেই জোহরান মামদানির জয় শুধু নিউ ইয়র্কের নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয়দের মনেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর সাফল্য এক অর্থে সেই সব অভিবাসীর জয়— যারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিচয়ের রাজনীতিকে ছাড়িয়ে উঠে আসতে চান।

 

মামদানির ‘ট্রাম্প কার্ড’ ছিল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক সততার প্রতিশ্রুতি। তাই বলা যায়, তাঁর জয় কেবল মার্কিন রাজনীতির নয়, বিশ্বব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের এক নতুন অধ্যায়।

 আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর