রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের
রূপগঞ্জে ড্যাপের নাম মাত্র অনুমোধনে
যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণ করায়
একদিকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে মানুষজনের চলার পথ সংকোচিত
হচ্ছে। আর এসব ভবন
যেকোন সময় ধসে পড়ে
বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার তারাব পৌরসভায় গত দেড়যুগে ড্যাপের
নাম মাত্র অনুমোদন ব্যবহার করে ২ হাজারের
অধিক ভবন নির্মাণ করা
হয়েছে। আর প্রতিটি ভবন
নির্মাণে তারাবো পৌরসভার ইঞ্জিনয়িার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সার্ভেয়ার মাকসুদুর রহমান, নক্সাকার মোহাম্মদ সাদেক সহ সংশ্লিষ্টদের লাখ
লাখ টাকা ঘুষ দিতে
হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ
রয়েছে।
তা দিয়েই চলে ভবন নির্মানের হিরিক। অথচ রাজউক এড়িয়ায় ৪টি বিষয়ের ছাড়পত্র ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায় না। ১. আর্কিটাকচারাল প্লান, ২.স্ট্রাকচারাল প্লান, ৩. প্লাম্পিং প্লান, ৪. ইলেকট্রিক্যাল প্লান। কিন্তু চাহিদা মাফিক ঘুষের টাকা পেলে আর কোন কিছুরই প্রয়োজন পড়ে না। এতে অপরিকল্পিত এসব ভবন যেকোন সময় ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা এমন দাবি স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগী সেলিম মাহমুদ জানান, তার ভবনের প্লান পাশ করাতে গিয়ে দিতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা।তারপর সয়েল টেস্ট করাতে গিয়ে বাহিরের থেকে ৫ হাজার টাকায় করান। কিন্তু পৌরসভার একর্মকর্তারা তা মানেন না। তাই ১০ হাজার টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে সয়েল টেষ্ট করাতে হয় তার।
তারাব এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে ভবনের ড্রইয়িং ডিজাইন আমি নিজেই করি। তখন তাদের কাছে জমা দিলে তারা তা গ্রহণ করেনি। ববং তার জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। বাধ্য হয়ে যখন আমি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেই তখন তারা আমার ড্রইয়িং ও ডিজাইন পাশ করে দেয়। তাছাড়া তারাব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম মনির কোন প্রকার অনুমোতি ছাড়াই তিন তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। যার পাশ দিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার নেয়া হয়েছে।
এসব হাই ভোল্টেজের তারের পাশে ভবন নির্মাণ করার কোন প্রকার নিয়ম নেই। সব মিলিয়ে টাকা দিলে অনিয়মই এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে।তারাব এলাকার আয়েত আলী বলেন, ২০২১ সালে আমি ১১২৫ স্কয়ার ফুট ৪ তলা ভবন নির্মাণের প্লানের জন্য আবেদন করি । তখন তারা প্লান পাশ করতে চায় না। আমাকে বিভিন্ন ভাবে ঘুরাতে থাকে। তখন তারা আমার কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে তাদের দাবিকৃত টাকা দিলে আমার ভবন নির্মাণের অনুমোতি দেয়। এমন নানা অভিযোগ পৌরসভার এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে থাকলেও বছরের পর বছর তারা রয়েছে বহাল তবিয়তে। এসব যেনো দেখার কেউ নেই।
এসব
বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ
জাইদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিষয়টি
আমার জানা নেই। এমন
কিছু ঘটে থাকলে তদন্ত
করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন
/ আরআর