সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 140
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
গত আগস্টে নিখোঁজ হওয়া সলঙ্গার অটো মিশুক চালক আমিরুল ইসলাম (২০) হত্যা রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটিত হয়েছে। প্রায় দুই মাসের অনুসন্ধানের পর একটি ডোবা থেকে তার কঙ্কাল উদ্ধারের মাধ্যমে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে সক্ষম হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও নিবিড় গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত অটো মিশুকের যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সলঙ্গা থানার অলিদহ গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম ৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ভাড়ার উদ্দেশ্যে অটো মিশুক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর ফিরেনি। পরিবারের খোঁজাখুঁজ ব্যর্থ হলে সলঙ্গা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। দীর্ঘদিন পর, ১৮ অক্টোবর রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চক নিহাল গ্রামের একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে ভাসমান কঙ্কাল দেখতে পায় স্থানীয়রা। আমিরুলের মা ঘটনাস্থলে এসে মৃতের পরনের প্যান্ট দেখে কঙ্কালটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন, যা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা পাওয়ার পর সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেনের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তদন্তে নামে। তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার মূল হোতাদের শনাক্ত করে। অভিযান চালিয়ে সলঙ্গার চক নিহাল থেকে মোঃ সাহেব আলী প্রামানিক (২৫) ও মোঃ মনিরুজ্জামান সরকার (৪৪) এবং তাড়াশ থেকে মোঃ আব্দুল আজিম প্রামাণিক (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড স্বীকার করে। প্রাথমিক জবানবন্দিতে জানান, কীভাবে পরিকল্পিতভাবে আমিরুলকে হত্যা করে অটো মিশুকটি লুট করা হয়। উদ্ধার হয় অটো মিশুকের হ্যান্ডেল, মিটার, হেডলাইট, তিনটি টায়ার, লোহার বডি ও চারটি ব্যাটারি। গ্রেপ্তারকৃতরা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে তারা সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আকাশজমিন / আরআর