ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মেয়র হত্যায় উত্তাল মেক্সিকো, জেন-জিদের আন্দোলনে আহত ১৫০


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:৫৬ পিএম

জেন-জি আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে মেক্সিকো। মিশোয়াকান রাজ্যের উরুয়াপানের মেয়র মাঞ্জো রদ্রিগেজ হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশটির তরুণরা। স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ নভেম্বর) জেন-জিরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে ১৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে তরুণদের অংশগ্রহণে আন্দোলন শুরু হলেও ধীরে ধীরে সব বয়সী মানুষ এ বিক্ষোভে যোগ দেন। বিরোধী দলও আন্দোলনে সমর্থন জানায়। রাজধানী মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকুয়েজ জানান, বিক্ষোভ দীর্ঘসময় শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু মুখোশধারী একটি দল পরিস্থিতিকে সহিংসতায় রূপ দেয়। এতে পুলিশের প্রায় ১০০ সদস্য আহত হন, যার মধ্যে ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের পাল্টা হামলায় আহত হন অন্তত ২০ বিক্ষোভকারী।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম। শুরুতে তার প্রতি জনগণের সমর্থন থাকলেও সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বাড়তে থাকে সমালোচনা। বিশেষ করে মেয়র মাঞ্জো রদ্রিগেজ হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র হয়ে ওঠে। ওই মেয়র তার শহরে সক্রিয় মাদক চোরাচালান গ্যাংদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাংদের প্রতিরোধের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী রোসা মারিয়া আভিলা বলেন, “মেয়র ছিলেন এমন একজন, যিনি অপরাধীদের ভয় পেতেন না। তিনি পাহাড়ি এলাকায় গ্যাংদের বিরুদ্ধে পুলিশ পাঠাতেন।” ২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী আন্দ্রেস মাসা বলেন, “আমরা প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি। আমাদের আরও নিরাপত্তা প্রয়োজন।”

বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ন্যাশনাল প্যালেস ঘেরাও করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারা ভবনের চারপাশে স্থাপিত লোহার বেড়া ভেঙে ফেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

এই সহিংসতা মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নিরাপত্তাহীনতা, গ্যাং সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম দেশটিতে পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো করেছে। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্টকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানিয়েছেন।

যদিও প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন, তবে ধারাবাহিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড তার প্রশাসনকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন ভবিষ্যতে মেক্সিকোর রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


এ সম্পর্কিত আরো খবর