সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 212
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে ১৭টি সেচ প্রকল্প চার বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সেচ প্রকল্পগুলোর মূল উদ্দেশ্য, ফলে কৃষকরা সময়মতো সেচ সুবিধা না পেয়ে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এই ১৭টি গভীর নলকূপ (এলএলপি) সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে। ২০২১ সালেই এসব সেচ পাম্পের নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর মধ্যে ৫ কিউসেকের ১০টি এবং ২ কিউসেকের ৭টি পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য একই বছর ভুঁইয়াগাতী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ডিমান্ড নোটের মাধ্যমে ৭৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকা জমা দিলেও আজ পর্যন্ত সেই সংযোগ দেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের কৃষকেরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন। ধানগড়া ইউনিয়নের ঝাগড়া গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন ও জামান সাহেব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চার বছর ধরে বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরছি, কিন্তু কোনো লাভ নেই। শুধু সময়ক্ষেপণের অজুহাত শুনছি।”
তেলিজানা গ্রামের কৃষক মাফুজুল বলেন, “এত টাকা ব্যয়ে পাম্প বসানো হলো, কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। আমাদের ধান ও সবজির মৌসুমে সেচ ব্যাহত হচ্ছে।” একই অভিযোগ করেন চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দাথিয়া দিগর গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম।
কৃষকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে কৃষকেরা সেচের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, ফলে অনেকেই ফসল চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
বিএডিসি-এর সহকারী প্রকৌশলী আনন্দ কুমার বর্মন জানান, “১৭টি সেচ পাম্পের জন্য প্রয়োজনীয় সব টাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সংযোগ মিলেনি। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হতে বসেছে।”
এদিকে ভুঁইয়াগাতী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নিজামুল ইসলাম সংযোগ প্রদানে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ট্রান্সফরমার ও তারসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া কিছু এলাকায় লাইন নির্মাণে স্থানীয়দের বাধাও ছিল।” তিনি আরও বলেন, “সরঞ্জামের সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সব সেচ পাম্পেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাবে।”
বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ প্রকল্পগুলো অকার্যকর থাকায় রায়গঞ্জের কৃষকেরা উদ্বেগে রয়েছেন। সেচ সুবিধা না পেলে সময়মতো বোরো মৌসুমের ফসল রোপণ ব্যাহত হবে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ নিশ্চিত হলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি কৃষি খাতে ব্যয়ও কমবে।
আকাশজমিন / আরআর