ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

গোপালপুরে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের ঘরে হাসির ঝিলিক


গোপালপুরে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের ঘরে হাসির ঝিলিক

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:০৫ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে চলতি আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতিকূলতা কাটিয়ে এমন ফলনে কৃষক-কৃষাণীদের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে তারা দিন গুনছিলেন বহুদিন ধরে। এখন সেই ধান কাটার উৎসব চলছে। নতুন ধান বিক্রি করে পরিবারের চাহিদা পূরণ, ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনা—সব মিলিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক নতুন ধান বিক্রি করে বাজার থেকে গরম জিলাপি ও মিষ্টি কিনে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

বাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হতো, নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম। ঋতুচক্রের পরিক্রমায় হেমন্তের অগ্রহায়ণ মাস শুরু হতেই গ্রামীণ জনপদে নবান্নের ঘ্রাণ ভেসে বেড়াতে শুরু করে। এ অঞ্চলে কৃষকদের ঘরে ঘরে আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। যদিও সময়ের আধুনিকতা অনেক ঐতিহ্যকে আড়াল করেছে, তারপরও কেউ কেউ পূর্বপুরুষের স্মৃতি ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। এ বছর ধানের দাম ভালো এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারছেন—তাই তাদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ।

সরজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, হেমন্তের মিষ্টি বাতাসে দুলছে পাকা ও আধাপাকা ধানের সোনালি শীষ। মাঠজুড়ে যেন সৌন্দর্যের উৎসব। পাকা ধানের মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠেছে বাংলার মাঠ-ঘাট। অনেক জায়গায় ধান কাটার মহোৎসব শুরু হয়ে গেছে। কৃষকের উঠোন ভরে উঠছে নতুন ধানে। কৃষাণীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধান কাটার পর দ্রুত জমি প্রস্তুত করে সরিষা চাষের পরিকল্পনায় ব্যস্ত সবাই। এ বছর পানির পরিমাণ কম থাকায় পাইজাম জাতের ধানের চাষ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ফলে আমন ধানের উৎপাদনও আগের চেয়ে বেশি হয়েছে।


স্থানীয় কৃষক আলম মিয়া বলেন, “আমি তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার বন্যার পানি কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ধানের দাম কিছুটা কম হলেও খড়ের দাম বেশি। সব মিলিয়ে খরচ মিটিয়ে লাভ হবে।” কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, “আগে নবান্ন উৎসব ধুমধাম করে পালিত হতো। এখন আগের মতো ধুমধাম না থাকলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য আমাদের পরিবার ধরে রেখেছে।”
কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “১০ বছর আগেও পহেলা অগ্রহায়ণে ধুমধাম করে নবান্ন পালন করতাম। আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতাম। ২ দিন আগে গোসল করে পবিত্র হয়ে বাম হাত দিয়ে ধান কর্তন করে নবান্নের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতাম। এখন এসব অনুষ্ঠান অনেকটাই হারিয়ে গেছে।”.
চাকরিজীবী তরুণ আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, “ছোটবেলায় দেখেছি দাদা-দাদী, নানা-নানি সবাই মিলে নবান্ন পালন করতেন। ধান ঘরে তোলার দিন ইমামকে ডেকে দোয়া করা হতো, সবাই মিলে দুপুরে খাওয়া—স্মৃতিগুলো এখনো জীবন্ত।” ইতিহাস লেখক জুবায়ের আলী বলেন, “গ্রামেগঞ্জে আবহমানকাল ধরে নবান্ন উৎসব অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যেই পালিত হতো। কিন্তু আধুনিকতার কারণে এখন এই উৎসবে ভাটা পড়েছে।”

গোপালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, “এবার আমনে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। অর্জন হয়েছে ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর। কৃষি বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। গোপালপুরের ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, তাই কৃষকের মুখে হাসি। এ বছর এমন অপ্রত্যাশিত ফলন কৃষকদের নতুন আশায় উজ্জীবিত করেছে।”

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর