মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ ঐতিহাসিক এক দিন পার করলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি পূর্ণ করলেন শততম টেস্টের মাইলফলক। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংসের পর আজকের দিনটি ছিল তার জন্য বিশেষ। আর সেই বিশেষ ম্যাচে ব্যাট হাতেও দেখালেন দারুণ দায়িত্বশীলতা এবং পরিপক্বতা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় দলের উপর চাপ তৈরি হতে থাকে। তবে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ক্রিজে দাঁড়িয়ে স্থিরতা এনে ইনিংসকে তুলে নেন দৃঢ় ভিতের ওপর। তিনি ধীরে-সুস্থে, মেপে খেলে নিজের ইনিংস সাজিয়ে নেন। দিনের খেলা শেষে তিনি অপরাজিত ৯৯ রানে মাঠ ছাড়েন এবং সেঞ্চুরির ঠিক দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার ব্যাট থেকে এসেছে অসাধারণ সব শট, যা ছড়িয়ে দিয়েছে মাঠ জুড়ে আত্মবিশ্বাস।
মুশফিকের এই ইনিংসের সঙ্গী ছিলেন লিটন দাস। তিনি অপরাজিত ৪৭ রানে দিনের খেলা শেষ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় দলকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেন। তাদের জুটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। ইনিংসের পুরো সময় মুশফিক প্রতিটি বল বিচার-বিশ্লেষণ করে খেলেছেন, যা আবারও প্রমাণ করেছে—চাপের মুহূর্তে তিনি দলের নির্ভরতার প্রতীক।
দিনের শেষে বাংলাদেশের মোট রান দাঁড়িয়েছে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৯২। উইকেটের চরিত্র ছিল ব্যাটিং সহায়ক, তবে প্রতিপক্ষ বোলাররাও শুরুর দিকে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ব্যাটাররা পরিস্থিতি সামলে নিয়েছেন। দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে মুশফিক তাঁর কাঙ্ক্ষিত শতক পূর্ণ করতে পারবেন কি না—এ মুহূর্তে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এটিই।
মুশফিকুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দলে সেবা দিয়ে আসছেন। তিনিই বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী। তার শততম টেস্টের দিনে সেঞ্চুরির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা—এটি নিঃসন্দেহে স্মরণীয় এক মুহূর্ত। এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছেন।
বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ দাঁড় করানো। দিনের শেষে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে তা দলের জন্য আশাব্যঞ্জক। যদি মুশফিক-লিটন জুটি আরও বড় করতে পারে, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ হাতেই থাকবে। আগামী দিনের প্রথম সেশন তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে তার এই দৃঢ় ও শান্ত ইনিংস ক্রিকেটভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সবাই অপেক্ষায়—ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির উদযাপনের।