ক্রীড়া ডেস্ক
দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনে মিরপুরে দাপুটে জয় বাংলাদেশের। আয়ারল্যান্ডকে ২১৭ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট আরও রাঙিয়ে উঠেছে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে—প্রথম ইনিংসে ১০৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩। সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়ে তাইজুল ইসলাম হয়েছেন সিরিজ সেরা।*
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সামনে ছিল ৫০৯ রানের বিশাল লিডের নিরাপত্তা। চতুর্থ দিনেই ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচকে হাতের মুঠোয় আনলেও পঞ্চম দিনে আয়ারল্যান্ডের লোয়ার অর্ডার বিশেষ করে কার্টিস ক্যাম্ফার দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসান মুরাদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিজালে ২৯১ রানে থেমেছে আইরিশদের দ্বিতীয় ইনিংস।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস : ২৯১/১০ (১১৩.৩ ov)
লক্ষ্য : ৫০৯
ফল : বাংলাদেশ ২১৭ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : মুশফিকুর রহিম
সিরিজসেরা : তাইজুল ইসলাম (১৩ উইকেট)
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৬৯ ওভারে ২৯৭/৪ ডিক্লেয়ার করে লিড নেয় ৫০৮ রানের। ওপেনার সাদমান ৭৮, মাহমুদুল হাসান জয় ৬০, মুমিনুল হক ৮৭ আর মুশফিকুর রহিম ৫৩* রানে অপরাজিত থাকেন।
প্রথম ইনিংসেও দারুণ ব্যাট করেছে টাইগাররা। সাদমান ৩৫, জয় ৩৪, মুমিনুল ৬৩, মিরাজ ৪৭ এবং লিটন দাস ১২৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। মুশফিকের শততম টেস্টে তার ১০৬ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে ৪৭৬ রানে দাঁড় করায়।
চতুর্থ দিন শেষে আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান তুলেছিল। সেখান থেকেই পঞ্চম দিন শুরু করেন কার্টিস ক্যাম্ফার ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন।
দিনের শুরুতেই বাংলাদেশ দ্রুত উইকেট শিকার করতে চাইছিল, কিন্তু ক্যাম্ফারের দৃঢ়তা তাদের বারবার থামিয়ে দেয়। ম্যাকব্রাইনের সঙ্গে তার ১০৫ বলের ২৬ রানের জুটি, এরপর জর্ডান নিলকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি এবং পরে গ্যাভিন হোয়ের সঙ্গে ১৯১ বলের ৫৪ রানের জুটি বাংলাদেশকে প্রায় দেড় সেশন ভোগায়।
শেষ পর্যন্ত হাসান মুরাদই দলকে মুক্তি দেন। তার বলে হোয়ে ৩৭ রানে বোল্ড, পরের বলেই হামফ্রিজ শূন্য রানে বিদায় নিলে আইরিশদের প্রতিরোধের ইতি ঘটে। ক্যাম্ফার অবশ্য ২৫৯ বল খেলে অপরাজিত থাকেন ৭১ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান মুরাদ নেন ৪ উইকেট। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট, একটি নেন খালেদ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ম্যাকব্রাইনকে আউট করে তাইজুল ইসলাম টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ২৫০ উইকেট পূর্ণ করেন। বাংলাদেশের স্পিন-নির্ভর কন্ডিশনে তাইজুলের এই কীর্তি তাকে কিংবদন্তি তালিকার শীর্ষ সারিতে তুলে দেয়।
মিরপুরের উইকেটে স্পিনই ছিল মুখ্য অস্ত্র। প্রথম ইনিংস থেকেই বাংলাদেশি স্পিনাররা ধারাবাহিকভাবে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে সক্ষম হন। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যাম্ফারের দীর্ঘ প্রতিরোধ ম্যাচের সময় বাড়িয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ এবং স্কোরবোর্ডের চাপ থেকে পালানোর সুযোগ পায়নি আইরিশরা। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মুমিনুল হক ও সাদমানের ইনিংস ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ এবং পরে ২৯৭/৪ ডিক্লেয়ার করে বিশাল চাপ তৈরি করে টাইগাররা। ফলে পঞ্চম দিনে জয় ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিকুর রহিম এক অনন্য নাম। তার শততম টেস্টে এমন স্মরণীয় পারফরম্যান্স দলের জয়কে করে আরও সুন্দর। একজন ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ারে শততম টেস্ট একটি আবেগঘন মুহূর্ত; সেখানে দুই ইনিংসে অর্ধশতক ও শতক উপহার দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ম্যাচসেরা—বাংলাদেশ ক্রিকেটে এটি একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত।
আকাশজমিন / আরআর