ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

টাঙ্গাইল–আরিচা মহাসড়ক উন্নয়ন

নির্মাণ কাজে কচ্ছপগতি : জনদুর্ভোগ


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:১৬ পিএম

মোজাম্মেল হক, টাঙ্গাইল 

আরিচা–ঘিওর–দৌলতপুর–নাগরপুর ও টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজ কচ্ছপগতিতে এগিয়ে চলছে। টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের অধীনে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প শুরু হয় ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি। চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ কাজ চলতি বছরেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, এলাইনমেন্ট নকশা প্রণয়নে জটিলতা, বন বিভাগের গাছপালার মূল্য নির্ধারণে অসহযোগিতা ও পল্লী বিদ্যুতের সহযোগিতা না পাওয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ থমকে আছে।

এরই মধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি ভরাট, পুরোনো রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি এবং নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলাসহ দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলার একমাত্র আঞ্চলিক মহাসড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা–প্রত্যাশী, শিক্ষক–শিক্ষার্থী এবং জরুরি কাজে জেলা শহরে যাওয়া কয়েক লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের মেইনটেন্যান্স খরচও বেড়েছে বহুগুণ।

টাঙ্গাইল জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে জানা যায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণে টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলার ৪৬টি মৌজায় ২৪৫.৫৫৭৭ একর জমি ২০টি এলএ কেস পর্যবেক্ষণ পূর্বক জমির সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয় কাজ করছে। এর মধ্যে বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে কেস নং–৩২, ৩৩ ও ৩৪ এর অন্তর্ভুক্ত মৌজাসমূহের সঠিক জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম চলমান আছে। কেস নং–৩১ (অলোয়া, বরটিয়া ও ভবানী) অংশে ৮ ধারা নোটিশ প্রদানের কাজ চলছে। দ্রুতই জমির মালিকদের মধ্যে প্রাপ্ত টাকা বিতরণ শুরু হবে।

বাকি ১৬টির মধ্যে কেস নং–২৮ (গোমজানী, বান্ধাবাড়ি ও ভুড়ভুড়িয়া) মৌজায় ৭(১) ধারা নোটিশ প্রস্তুত করা হচ্ছে। কেস নং–২২, ২৩, ২৫, ২৬ ও ৩০ (সহবতপুর, নলসন্ধ্যা, ভাটপাড়া, বাদে নলসন্ধ্যা, সানবাড়ি, পাছ এলাসিন, সাকোইজোড়া, বিন্যাওরী ও সন্তোষ) মৌজাসমূহে আপত্তিগুলো সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক নিষ্পত্তির কাজ চলছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জমির মূল্যহার পাওয়া যায়নি চাষাভাদ্রা, সাটিয়াগাজী, আররা কুমেদ, ভাদ্রা ও টেংরীপাড়া মৌজার জন্য। সড়ক বিভাগ টাঙ্গাইলের এলাইনমেন্ট নকশা জটিলতায় আটকে আছে দুয়াজানি, বাড়াপুষা, কাঠুরি, বাবনাপাড়া, ঘিওরকোল ও ডাঙ্গা মৌজার ভূমি অধিগ্রহণ।

কেস নং–১৫ ও ২৪ (চাষাভাদ্রা, সাটিয়াগাজী, লক্ষিকোট ও আগ এলাসিন) মৌজায় বন বিভাগের গাছপালার মূল্য নির্ধারণের কাজ ধীরগতিতে চলছে, যার ফলে ভূমি অধিগ্রহণ স্থবির হয়ে গেছে। কেস নং–১৬, ১৭ ও ১৯ (আররা কুমেদ, ভাদ্রা, ভাদ্রা বিকন, টেংরীপাড়া, ধুবড়িয়া, মাইঝাল, অলোয়াতারিনী, বান্ধাবাড়ি ও ভুড়ভুড়িয়া) মৌজাসমূহে প্রাক্কলন প্রস্তুতি ও প্রেরণের কাজ চলছে।


সম্প্রতি টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সওজ) ঢাকা জোন বরাবর প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদ আগামী দুই বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শেষ হতে পারে। প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১,৬৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে টাঙ্গাইল অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৩৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ডিয়েনকো, হাসান টেকনো, মীর ব্রাদার্স ও এনডিই—এই চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে।

আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী জাহানারা আক্তার বলেন, ‘প্রায় ৫ বছর ধরে এই পথে বিভিন্ন প্রয়োজনে জেলা শহরে যেতে হয়। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। সুস্থ মানুষও এ পথে গাড়ির ঝাঁকুনিতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ রাস্তায় সময়ের প্রচুর অপচয় হয়। খুব বিপদ না হলে আমরা টাঙ্গাইল শহরে যাই না। দ্রুত রাস্তাটি চলাচলযোগ্য করার অনুরোধ করছি।’

নাগরপুর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকচালক শহিদ মিয়া বলেন, ‘এ রাস্তায় চললে গাড়ির আয়ু কমে যায়। বড় বড় গর্তে ভরা। এতে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি গাড়ির মেইনটেন্যান্স খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কার জরুরি।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিই–র প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু তালিব ফাহমিদুর রহমান জানান, ‘ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শুধু সাধারণ মানুষেরই নয়, আমাদেরও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শ্রমিকের মজুরি, যানবাহনের মেরামত ও ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষতি হচ্ছে। এখনই পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করতে পারলে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিসি স্যারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুত সব জটিলতা কাটিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টাকা প্রদান সম্ভব হবে।’

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতির পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও বিভিন্ন কারণে আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ স্থবির হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া কাজের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব সমস্যা সমাধান করে জনগণকে একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য মহাসড়ক উপহার দিতে পারব।’

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর