অনলাইন ডেস্ক
বগুড়ার শেরপুরে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুই বন্ধু নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। রবিবার রাতে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের ফুলবাড়ি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন– গাড়ীদহ ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের হাফিজার রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান (২০) এবং শেরপুর পৌর শহরের গোসাইপাড়া এলাকার মৃত বাবলু ব্যাপারির ছেলে শাহাবুল হাসান (২০)। আহত হয়েছেন গোসাইপাড়া এলাকার উজ্জ্বল বিশ্বাসের ছেলে উৎসব বিশ্বাস (২০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহাবুল হাসান মোটরসাইকেলে তার বন্ধু মেহেদী হাসান এবং উৎসব বিশ্বাসকে নিয়ে রামেশ্বরপুর গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ফুলবাড়ি বাজার এলাকায় সড়কের পাশে একটি দোকানের শাটারে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেলটি ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে তিন বন্ধু আহত হন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত শাহাবুল ও মেহেদীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠান। সিলিমপুর মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লাল মিয়া জানান, শজিমেক হাসপাতালে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহাবুল ও মেহেদী মারা যান। আহত উৎসব বিশ্বাস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
আহত উৎসব বিশ্বাস জানিয়েছেন, তারা তিন বন্ধু সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেছেন। শাহাবুল মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তারা মেহেদীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সকালে শেরপুর থানার এসআই আমিরুল শিকদার জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুই বন্ধুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে শাহাবুল হাসান তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘সাদা কাপড়, মাটির ঘর, বাসের ছাউনি’। দুর্ঘটনার পর স্ট্যাটাসটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মন্তব্য করেন, এটি যেন তার মৃত্যুর পূর্বাভাস ছিল। তবে নিকটজনরা বলছেন, এটি ছিল তার স্বাভাবিক রসিকতার ভঙ্গি। পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
আকাশজমিন / আরআর