আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আলাপের পর ট্রাম্প আগামী বছরের এপ্রিল মাসেই বেইজিং সফরে যেতে সম্মতি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি শি জিনপিংকে ২০২৫ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।
ফোনালাপে দুই নেতা বাণিজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ, ফেন্টানিল সংকট, তাইওয়ান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক–সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরে তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, “চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়!”
চীনের সরকারি বার্তাসংস্থা জানায়, আলোচনায় দুই দেশই ‘সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক লাভজনক নীতির’ ভিত্তিতে ইতিবাচক অগ্রগতির গতি বজায় রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থিতিশীল ও ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে।
গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্যিক উত্তেজনা কমাতে একটি ‘শুল্ক যুদ্ধবিরতি’ হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যে আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্ক অর্ধেকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে ফেন্টানিলের প্রবাহ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হয়। যদিও এখনো চীনা পণ্যের ওপর গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক বজায় রয়েছে। অন্যদিকে চীনও বিরল ধাতু রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, সোমবারের ফোনালাপ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং সেখানে মূলত বাণিজ্য ইস্যুই সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, “চীনের পক্ষ থেকে আমরা যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তারাও একই অবস্থান প্রকাশ করেছে।”
ফোনালাপে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় হয়। শি জিনপিং ট্রাম্পকে জানান, তাইওয়ানের “চীনে প্রত্যাবর্তন” যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক ব্যবস্থায় চীনের ভবিষ্যৎ কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়েও তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে জাপানের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা গেছে। জাপান আবার যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। চলতি মাসেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা করে, তাহলে জাপান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।
তবে ট্রাম্প তার পোস্টে তাইওয়ান প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি। ফোনালাপকে ঘিরে দুই দেশের বিবৃতি দুটোর লক্ষ্য একই—দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কমিয়ে নতুন সমঝোতার দিকে অগ্রসর হওয়া।
আকাশজমিন / আরআর