কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
কিশোরগঞ্জে বাউল আবুল সরকারের মুক্তি এবং তার গ্রেপ্তার-পরবর্তী পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী কথিত তৌহিদী জনতার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো বাউল, সাধক ও ভক্তরা অংশ নেন।
জেলা বাউল সমিতির সভাপতি বাউল হারিছ মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাউল কিবরিয়া খোকনের সঞ্চালনায় এ মানববন্ধনে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন মধু, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত সরকার, বাপা সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম, তরফিয়া দরবার ও মাজার শরীফের সাজ্জাদানসীন সৈয়দ ইয়াসিন, জেলা যুবদলের সহসভাপতি রকিবুল হাসান ফয়সাল এবং জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক বাবুল রেজা প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, কথিত তৌহিদী জনতা নামে একটি সংগঠন সারা দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। তারা পীর-মাশায়েখদের কবর ভাঙচুর থেকে শুরু করে মাজারে হামলা, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন এবং সেই মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস কাজ করে দেশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। বক্তারা দাবি করেন, দেশজুড়ে বাউল সাধকদের ওপর অমানবিক হামলা ও নির্যাতন পরিচালিত হচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক বিভক্তি তৈরির অপচেষ্টা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতায় বাউল আবুল সরকারকে ষড়যন্ত্র করে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাউল দর্শন ও মরমী গান বাংলাদেশের সংস্কৃতির বহু প্রাচীন ঐতিহ্য। অথচ এই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার জন্যই বিশেষ মহলের ইন্ধনে কথিত তৌহিদী জনতা বিভিন্ন জায়গায় বাউল ও সুফি ধারার অনুসারীদের ওপর হামলা করছে।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা বাউল আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি এবং কথিত তৌহিদী জনতার নামে যারা সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে আগত বাউল ও ভক্তরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে উপস্থিত হন। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘বাউল আবুল সরকারের মুক্তি চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’, ‘বাউল ঐতিহ্যের ওপর হামলা বন্ধ কর’, ‘মরমী সংস্কৃতি রক্ষা করো’, ‘যেখানে বাউল, সেখানে শান্তি’ ইত্যাদি স্লোগান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাউলরা হাজার বছর ধরে ভালোবাসা, শান্তি, সাম্য ও মানবতার বার্তা প্রচার করে আসছেন। অথচ বর্তমানে বাউলদের লক্ষ্য করে যেসব হামলা হচ্ছে তার নেপথ্যে রয়েছে কুসংস্কার, ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা।
আয়োজকরা জানান, দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আরও বৃহৎ কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ ধরনের হামলা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাউল সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
আকাশজমিন / আরআর