ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জামায়াতের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন ড. ফয়জুল হক


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:১৩ পিএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য পদত্যাগ করা বিএনপির মালয়েশিয়া কমিটির সহ–সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ড. ফয়জুল হক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান।

ড. ফয়জুল হক ওলিয়ে কামেল হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রহ.)–এর নাতি। তিনি ১৯৮৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার পশ্চিম চাড়াখালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মুজ্জাম্মিলুল হক রাজাপুরী হুজুরের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

বড় ভাই অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ছাইফুল হক, মেঝো ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল হক এবং সেজো ভাই আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক। পরিবারে শিক্ষক, প্রিন্সিপাল ও ডক্টর সদস্যই বেশি থাকলেও ছোটবেলা থেকেই মানবসেবার আদর্শে রাজনীতিকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন ড. ফয়জুল হক।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বি.এ (অনার্স) ও এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া থেকে ২০১৯ সালে পিএইচডি এবং ২০২৩ সালে পোস্ট–ডক্টোরাল ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে তিনি ঝিনাইদহের কন্যা কাজী আফিফা খাতুনকে বিয়ে করেন।

গত ১৬ বছর ধরে তিনি অনলাইন টকশো, লাইভ অনুষ্ঠান এবং ধারাবাহিক লেখালেখির মাধ্যমে ন্যায়–অন্যায়ের প্রশ্নে সোচ্চার ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ‘জুলাই বিপ্লব’–এর পক্ষে প্রবাসে থেকেও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ১২ জুলাই তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

দাঁড়িপাল্লার মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ড. ফয়জুল হক বলেন, “দাঁড়িপাল্লার মনোনয়ন পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান মন্ত্রী হবেন। দেশপ্রেমিক মানুষের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে। সেই সরকারের অংশ হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।”

তিনি আরও বলেন, “ঝালকাঠি-১ আসনের জনগণ সত্যের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত। এ অঞ্চলের সব দল–মতের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন— এবারের ভোট দাঁড়িপাল্লায় হবে।”

ড. ফয়জুল হক জামায়াতে ইসলামের আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ পতনের পর তিনি আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন।”

এ ছাড়া তিনি ইসলামি আন্দোলনের আমীর চরমোনাই পীর সাহেব, ছারছিনা, কায়েদ সাহেব হুজুর নেছারাবাদসহ বিভিন্ন পীর–মাশায়েখ, আলেম–ওলামা, কবি–সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কৃষক ও শ্রমিক—সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, “সবাই মিলে এমন একটি বিপ্লব ঘটবে যা বিগত সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।”


এ সম্পর্কিত আরো খবর