ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

চোখের আলো ফিরে পেতে কুবরার আর্তি


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:৪৪ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মেধাবী শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা (১৯) চোখের আলো হারাতে বসেছেন। বইয়ের ছোট লেখা দেখা তাঁর জন্য এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অভাব–অনটন ও অর্থের সংকটে দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারছেন না মোছা. খাদিজাতুল কুবরা। ২০২২ সালে তাঁর ডান চোখে ২০ শতাংশ ও বাম চোখে ২৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি ছিল। বর্তমানে ধীরে ধীরে তা আরও ঝাপসা হয়ে আসছে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। খাদিজাতুল কুবরা তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কুন্দইল গ্রামের মো. মাহবুর ইসলামের মেয়ে।

জানা যায়, খাদিজাতুল কুবরার বয়স যখন মাত্র ৮ বছর, তখনই তিনি বুঝতে পারেন তার দৃষ্টিসমস্যা। পড়াশোনার সময় বইয়ের লেখা ছোট দেখা যেত, ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা চোখে পড়ত না। ২০১৪ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর চক্ষু হাসপাতালে দেখালে চিকিৎসক জানান, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্ভব নয়। পরে সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে ৬ মাস চিকিৎসা নিলেও বিশেষ উন্নতি হয়নি। এরপর ২০১৬ সালে ঢাকা ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে দেখালে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর সমস্যা জন্মগত; গর্ভকালেই রেটিনা ড্যামেজ হয়েছিল, ফলে খুব উন্নতি হবে না। ২০২২ সাল থেকে ধানমন্ডির হারুণ আই কেয়ারে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দেশের বাইরে নিতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কিন্তু টাকার অভাবে ৩ বছর ধরে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায়ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করা। তিনি বলেন, “এখন খুব কম দেখি। দিন দিন চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারি। আমি দেখতে চাই, আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক মেহেরীন সুজন আদি জানান, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী খাদিজাতুল কুবরা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৪ পেয়েছিলেন। এবার শ্রুতি লেখকের মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৪.৮৩ অর্জন করেছে। একটি বিষয়ে কম নম্বর পাওয়ায় বোর্ড চ্যালেঞ্জ করেছে। আশা করছে জিপিএ–৫ পাবে। তবুও তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তিনি বলেন, “সমাজের হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে একটি দরিদ্র পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।” খাদিজাতুল কুবরার চিকিৎসার জন্য তিনি সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

খাদিজাতুল কুবরার মা মোছা. মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, “তিন শতকের বসতভিটা ছাড়া আমাদের কিছুই নেই। ছোটবেলা থেকেই মেয়ের খুব শখ পড়ালেখার। সেই যন্ত্র দিয়ে লিখতে–পড়তে গিয়ে সে অনেক কষ্ট পায়। এসএসসিতে জিপিএ–৪ পেয়েছিল, এইচএসসিতে পেয়েছে জিপিএ–৪.৮৩। মেয়ের স্বপ্ন প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করা। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। তাহলে তার স্বপ্ন পূরণ হবে না। তাই সবার কাছে অনুরোধ—মেয়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য করুন।”

খাদিজাতুল কুবরার বাবা মো. মাহবুর ইসলাম জানান, সময় যত যাচ্ছে মেয়ের চোখের সমস্যা ততই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি নিজেও অসুস্থ। তাঁর সামান্য উপার্জনে এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে চোখ প্রতিস্থাপন করতে হবে। খরচ হবে প্রায় ৭–৮ লাখ টাকা। এই টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। ঋণ করে একদিকে চিকিৎসা ব্যয়, অন্যদিকে সংসার চালাতে গিয়ে আমি দিশেহারা। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ—আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করুন।”

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর