পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তরের এই সীমান্তবর্তী উপজেলায় শীতের আগাম বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে হিমেল হাওয়া, ঘন আর্দ্রতা এবং সকাল বেলার নিম্ন তাপমাত্রায়। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও এটি আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি, তবুও শীতের তীব্রতা কমার কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিনই শীত আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘন হিমেল হাওয়া বইতে থাকে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ, যা অনুভূতিকে আরও শীতল করে তোলে। ভোর থেকে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকলেও পরে সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে হালকা রোদের দেখা মেলে। তবে রোদ থাকলেও শীতের দাপট তেমন কমেনি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এর আগে বুধবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতিদিনের রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে—শীত ধীরে ধীরে নামছে এবং ডিসেম্বরের শুরু থেকেই তেঁতুলিয়ায় শীতের আরও তীব্রতা দেখা দিতে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “উত্তরাঞ্চলে ধীরে ধীরে শীত নামছে। তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের মধ্যে শীতলতম অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শীত বাড়বে এবং শৈতপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।”
প্রবল হিমেল হাওয়ায় ভোরে কাজে বের হওয়া দিনমজুর, কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক স্থানে নদী ও কান্দায় সকালের কুয়াশা ঘনীভূত হয়ে পথচারীদের চলাচলে প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় চা দোকানগুলোতে সকালে ভিড় বাড়ছে, শীত নিবারণে গরম চায়ের কদর বেড়েছে।
শীত বাড়তে থাকায় কম্বল, সোয়েটার, গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা যাচ্ছে। পঞ্চগড়ের স্থানীয় বাজারে গরম পোশাকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু দোকানদার দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শীতের শুরুতেই মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে নিম্নআয়ের মানুষ। রাস্তায় রিকশা চালক, দিনমজুর ও খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবী মানুষরা শীত নিবারণে বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করছেন। অনেকে পুরোনো গরম কাপড় ব্যবহার করছেন, আবার কেউ কেউ আগাম শীতের প্রস্তুতি হিসেবে নতুন কাপড় কিনছেন।
স্থানীয়দের মতে, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই সময়টায় তেঁতুলিয়া সবচেয়ে বেশি শীতপ্রবণ থাকে। এ বছরও একই ধারা বজায় থাকবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। শীত যতই বাড়বে, ততই স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও শীত-সংবেদনশীল মানুষের। তাই এখন থেকেই তারা সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন।