ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

শ্রীলঙ্কা–ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা–বৃষ্টিতে ৩৭১ জনের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৪৯ পিএম

শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে এখন পর্যন্ত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৩০ জন এখনো নিখোঁজ বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জরুরি উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিকম্পে অন্তত ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ ও ভূমিকম্পের পর শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুমাত্রা প্রদেশের মধ্য তাপানুলি ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকা। টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে গ্রামের ভেতর ঢুকে বহু মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং ধ্বংস করে শত শত বাড়িঘর।

গত সপ্তাহে সুমাত্রায় বর্ষার অস্বাভাবিক বৃষ্টি নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, বাজার ও রাস্তা। ধ্বংস হয়েছে সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামো। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারীরা অনেক জায়গায় পৌঁছাতে পারছেন না। এর ফলে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিরূপণ ও উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে বৃষ্টিপাত সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। টানা বৃষ্টিতে শহরের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু এলাকায় বাড়িঘর ধসে গেছে এবং বহু মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মহাপরিচালক কোটুওয়েগোদা শনিবার জানিয়েছেন, সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৩ হাজার ৯৯৫ জন মানুষ। তাদের ঘরবাড়ি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘূর্ণিঝড়টি গত বুধবার শ্রীলঙ্কায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এরপর থেকে টানা বৃষ্টিতে দেশটির বৃহৎ অংশে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায় অনেক গ্রাম থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ফলে উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ বর্তমানে ভারতের তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্যবর্তী অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে ব্যাপক বর্ষণের আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার দল মোতায়েন করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় অস্বাভাবিক আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অতি বৃষ্টিপাত, নদীর পানি বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস এবং আকস্মিক বন্যার ঘটনাগুলো আরও ঘন ঘন ঘটছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ায় ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর