খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় বিড়ালপ্রেমীদের মিলনমেলায় প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ‘কানিভা পেটস্টিভ্যাল খুলনা-২০২৫’ মাতিয়েছে দেশি ও বিদেশি ৮০টি বিড়াল। দেশের বিভিন্ন প্রজাতির বিড়াল—দেশি, পার্সিয়ান, ব্রিটিশ শর্ট হেয়ার, স্কটিশ, বেঙ্গল, মিক্সডসহ অন্যান্য জাতের বিড়াল—ক্যাট শোতে অংশ নিয়েছেন।
বিকেলে খুলনার বিজয়গাথা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই ক্যাট শোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল উপচে পড়া। কানিভা বাংলাদেশ ও থ্রিএস ইমপেক্স বাংলাদেশ এই আয়োজনের জন্য দায়িত্ব পালন করেছে। অনুষ্ঠানটি বিড়ালপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. এবি এম জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের আয়োজন পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং সমাজে প্রাণীর প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।”
কানিভা আন্তর্জাতিক পোষা প্রাণীর খাবারের কান্ট্রি ব্র্যান্ড ম্যানেজার মো. দীন ইসলাম আমির বলেন, “বিড়ালপ্রেমীদের জন্য এই আয়োজন আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক। প্রতি বছর আমরা চাই এই পেটস্টিভ্যাল আয়োজন করতে, যাতে পোষা প্রাণীর অধিকার, পুষ্টি, সঠিক ডায়েট ও পরিবেশের সঙ্গে মানবের সম্পর্ক সম্পর্কে মানুষ সচেতন হয়।”
ক্যাট শোতে অংশগ্রহণকারী খাদিজা আলম জানান, তিনি সুইট-লুনা পরিবারের পিওর পার্সিয়ান ব্রিডের বিড়াল নিয়ে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির বিড়াল রয়েছে। যেমন মিক্সড ব্রিড, কালিকো, টাবি, পার্সিয়ান ইত্যাদি। এমন আয়োজন সত্যিই অনন্য।”
জান্নাত আরা জেরিন ও আদিবা নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাট শোতে এসে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, খুলনায় প্রতি বছর এ ধরনের আয়োজন করা হোক। তাদের মতে, এ ধরনের মিলনমেলা বিড়ালপ্রেমীদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদেরও পোষা প্রাণীর প্রতি সচেতন করে।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পোষা প্রাণীর ভালোবাসা, পোষণের সঠিক উপায়, পরিচর্যা ও সামাজিক সচেতনতা প্রসারিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের সময় দর্শনার্থীরা বিড়ালদের সঙ্গে ছবি তোলেন, বিভিন্ন প্রজাতি পরিচিত হন এবং পোষা প্রাণীর খাওয়া, স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ করেন।
ক্যাট শোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পোষা প্রাণীর মালিকরা অংশগ্রহণ করে। স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন পোষা প্রাণী ও মানুষকে কাছাকাছি আনে এবং বিড়ালপ্রেমীদের জন্য একটি আন্তরিক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি করে।
স্মরণযোগ্য এই ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ, দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং আয়োজকদের আয়োজন সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। পরবর্তী বছরেও এ ধরনের আয়োজনের প্রত্যাশা করছেন সকল পোষা প্রাণীপ্রেমী।
আকাশজমিন / আরআর