ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বঙ্গোপসাগরে স্পিডবোট ডুবিতে মা-মেয়ের মৃত্যু


বঙ্গোপসাগরে স্পিডবোট ডুবিতে মা-মেয়ের মৃত্যু

  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৪৯ পিএম

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফে ফেরার পথে বঙ্গোপসাগরে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটের অদূরে গোলারচর সংলগ্ন সাগরে ৮ যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোট ডুবে গেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার এবং তার ছোট মেয়ে মাহিমা আক্তার।

স্থানীয় লোকজন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সমুদ্র থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক মরিয়ম আক্তার ও তার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর ছয় যাত্রীর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জায়েদ নূর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্পিডবোটটি কোন পরিস্থিতিতে ডুবেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ থানায় আনা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মা ও মেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে টেকনাফ যাচ্ছিলেন।

সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার দিনই নতুন মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ চলাচল শুরু হয়। তিনটি জাহাজে মোট ১১৭৪ জন পর্যটক দ্বীপে পৌঁছান। চলতি মৌসুমে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য দ্বীপ খোলা থাকবে। পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও ছোট নৌযানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় ঝুঁকি থাকছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, অতিরিক্ত লোড এবং নিরাপত্তা মান অমান্যের কারণে ছোট নৌযানগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। ছোট নৌযানগুলোর নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

স্পিডবোটগুলোতে লাইফজ্যাকেট বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি হয়েছে। যাত্রার আগে নৌযানগুলোর সক্ষমতা, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং যাত্রীসংখ্যা যাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই এমন দুর্ঘটনা তাদের ব্যবসায়িক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে আগামীতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে নিহত মা ও মেয়ের পরিবার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সমাপ্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর