সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় সরকারি স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের কারণে সদর ও তালার চারটি সরকারি বিদ্যালয়ে সোমবার বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষকেরা পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। এতে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা হলে উপস্থিত হয়ে ফিরে যায়।
শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে চলমান দাবি-দাওয়াগুলোর বাস্তবায়ন দাবি করছেন। আন্দোলনকারী মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রধান দাবি হচ্ছে সহকারী শিক্ষক পদকে নবম গ্রেডে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন ও গেজেট প্রকাশ করা। পাশাপাশি বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় শূন্যপদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের ব্যবস্থা চাইছেন তারা।
শিক্ষকরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান ও ২০১৫ সালের পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের ২-৩টি ইনক্রিমেন্টসহ বর্ধিত বেতন সুবিধা চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক গোলাম মহি উদ্দিন বলেন, শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক হলেও পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। “বার্ষিক পরীক্ষা শেষে আন্দোলন করলেও পারত, এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন আন্দোলনকারী শিক্ষক, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেন, “বছর ঘুরে বছর সহকারী শিক্ষকরা বঞ্চনার শিকার। সুপ্রিম কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিলেও টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের ফাইল এখনও ঝুলে আছে। দাবি পূরণের নিশ্চয়তা ছাড়া পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরীক্ষা বর্জন করেছি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশ আসলে আমরা তা পালন করব।”
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু জানান, ২০ নভেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা চলছিল। সোমবার বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও সম্পন্ন ছিল, কিন্তু কয়েকজন শিক্ষক পরীক্ষা নিতে অস্বীকৃতি জানান। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা যথারীতি শুরু হবে। যারা পরীক্ষা কাজে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার স্থগিত পরীক্ষাগুলো শনিবার নেওয়া হবে। আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষকদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার আবুল খায়ের বলেন, “পরীক্ষা বন্ধ করে যারা আন্দোলন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার থেকে সব স্কুলে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। কেউ বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের তালিকা শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হচ্ছে।”
সোমবার সাতক্ষীরার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং তালার দুটি সরকারি স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান চান।
আকাশজমিন / আরআর