বগুড়ার শিবগঞ্জে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একই ইটভাটায় স্বামী ও স্ত্রীর একসাথে মৃত্যু হয়েছে। ভুরঘাটা এমএসবি ইটভাটায় কাজের সন্ধানে দিনাজপুরের রানীগঞ্জ থেকে আসা এই দম্পতি জীবিকার তাগিদে মৌসুমের কাজ করে পরিবারের সামান্য সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার আগেই সেই স্বপ্ন কালো মেঘে ঢেকে যায়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা জানায়, ইটভাটার পাশে থাকা অস্থায়ী ঘরে স্ত্রীর নিথর দেহ পড়ে ছিল। বাইরে বসে স্বামী অঝোরে কাঁদছিলেন। কাছে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি কাঁপা কণ্ঠে শুধু বলতে পারেন, "আমার বউ আর বেঁচে নাই..."। এই কথা বলার পর তিনি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক স্বামীকেও মৃত ঘোষণা করেন। মনে হচ্ছে, স্ত্রীর মৃত্যু সইতে না পেরে স্বামীও মুহূর্তেই জীবন হারিয়েছেন।
ইটভাটার মালিক জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দু’জনেই মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তাদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দম্পতি সরদারের মাধ্যমে কাজের উদ্দেশ্যে এসেছিল, তবে কাজ শুরু হয়নি।
এ এলাকার স্থানীয়রা বলেন, জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এসব ইটভাটায় আসে। তবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা অনেকদিন ধরেই তারা দেখেননি। রানীগঞ্জ থেকে আসা এই দম্পতির মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে সামাজিক, অর্থনৈতিক চাপ এবং কর্মসংস্থানের সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। দম্পতির করুণ মৃত্যু কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার দুরবস্থাকে তুলে ধরে। এই ধরনের ঘটনায় মানবিক সহানুভূতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক সংস্থা ও প্রশাসনের আরো কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
আকাশজমিন / আরআর