ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সার্কের বিকল্প জোট চিন্তায় ইসলামাবাদ


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:২৩ পিএম

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনকে নিয়ে প্রস্তাবিত ত্রিদেশীয় জোটের পরিধি আরও বাড়ানো যেতে পারে। তাঁর মতে, অঞ্চলে সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতাই ভবিষ্যতের পথ। এই জোট গঠিত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। দার বলেন, এ উদ্যোগ সার্কের মতো অকার্যকর আঞ্চলিক সংস্থার বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। সার্ক বর্তমানে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, বিশেষত ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার কারণে।

২০২৪ সালে ভারত-পাকিস্তানের সরাসরি বাণিজ্য যেখানে ১.২ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে অন্য দেশের মাধ্যমে পরোক্ষ বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। আঞ্চলিক সংযোগ দুর্বল হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই বাস্তবতায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চীনের কূটনীতিকরা গত জুনে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

পাকিস্তান এমন একটি দক্ষিণ এশিয়ার কথা কল্পনা করছে যেখানে বিভাজনের বদলে সহযোগিতা শক্তিশালী হবে। তবে বাস্তবতা চ্যালেঞ্জবিহীন নয়। লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রাবেয়া আক্তার মন্তব্য করেন, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ উচ্চাকাঙ্ক্ষী হলেও অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কতটা যুক্ত হবে, তা অনিশ্চিত। রাজনৈতিক বাস্তবতা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ এই জোটের ভবিষ্যৎকে জটিল করে তুলতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার সহযোগিতা কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত সার্কের লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা সার্ককে প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনসংখ্যা ২০০ কোটির বেশি হলেও পারস্পরিক বাণিজ্য মাত্র ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ। অপরদিকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আসিয়ান দেশগুলো ২৫ শতাংশ বাণিজ্য নিজেদের মধ্যেই করে। বিশ্বব্যাংকের অনুমান, বাধা দূর করা গেলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য করতে সক্ষম।

সার্ক ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল বিবিআইএন গঠন করে। পরে বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড বিমসটেক তৈরি করে আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এসব কাঠামোর অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তানের ত্রিদেশীয় প্রস্তাব বাস্তবসম্মত হলেও তা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতায় ভরপুর।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের শাবাব ইনাম খান বলেন, পাকিস্তানের প্রস্তাবটি উচ্চাভিলাষী হলেও দক্ষিণ এশিয়ার সহযোগিতা বাড়াতে এটি প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি মনে করেন, নতুন জোট গঠনের সুযোগ অবশ্যই আছে, তবে এতে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক জটিল হতে পারে এবং ভারত-চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।

পাকিস্তান চাইছে একটি নির্দিষ্ট ও সীমিত আকারের ত্রিদেশীয় সহযোগিতা কাঠামো গঠন করতে। যা আঞ্চলিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে দেশগুলোর আগ্রহ, বাস্তবিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর