রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনি ইউনিয়নের দলশিংপুর এলাকায় দুই সন্তানের জননী আরজিনা বেগম (৩০) কে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে মারধর ও মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। ৩ ডিসেম্বর বিকেলে ঘটনার পর ভিকটিমের বড় ভাই এরশাদ হোসেন চারজনকে আসামী করে মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের বরাতে জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে কাউনিয়া উপজেলার সদরা তালুক বাহেরহাট এলাকার আজিজুল ইসলামের মেয়ে আরজিনা বেগমের সঙ্গে মিঠাপুকুর উপজেলার দলশিংপুর এলাকার বুলু মিয়ার ছেলে শাহাদত হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে; বড় ছেলে আট বছর বয়সী এবং এক নবজাতক মাত্র ৭৫ দিনের।
পরিবারের অভিযোগ, গত ছয় মাস ধরে স্বামী শাহাদত হোসেন নানা অজুহাতে আরজিনার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে চাপ দিতেন। একাধিকবার টাকা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। আরজিনার ছোট ভাই রিপন ইসলাম জানান, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করত, যা তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরজিনা দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন। এরপর সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফিরে দেখেন স্বামী শাহাদত ময়মনসিংহ জেলার আখি মনি নামে অন্য এক যুবতীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলেছেন। এরপর সংসারে নিয়মিত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন বিকেলে শাহাদত, তার দ্বিতীয় স্ত্রী আখি মনি এবং শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে আরজিনাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তারা কীটনাশকের বোতল এনে জোরপূর্বক আরজিনার মুখে ঢেলে দেন। এতে আরজিনা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগ করা হয়, হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় স্বামী ও সহযোগীরা। তাদের ফোনে পরিবারের কাছে জানানো হয় যে আরজিনা অসুস্থ। ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আরজিনার বড় ভাই, ছোট ভাই ও ফুফুসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তার নিথর দেহ পান।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, “হত্যার আলামত পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
ময়নাতদন্ত শেষে ৫ ডিসেম্বর বাদ জুমা আরজিনার দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মাত্র আড়াই মাসের নবজাতককে নিয়ে পরিবারে চলছে আহাজারি।
ভিকটিমের বড় ভাই এরশাদ হোসেন, ছোট ভাই রিপন ও ফুফু লাইলি বেগম জানান, আরজিনা একজন শিক্ষিত নারী, অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। তারা দাবি করেন যে, দুই সন্তানের মা আরজিনা আত্মহত্যা করতে পারে না। এ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আকাশজমিন / আরআর