ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কম্বোডিয়ায় বিমান হামলা চালাল থাইল্যান্ড


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১২:৪৭ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ফের উত্তেজনা সংঘাত দেখা দিয়েছে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্তবিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় আবারও শুরু হয়েছে গুলি বিনিময়। রোববার থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী প্রদেশ সি সা কেত এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে হওয়া সংঘাতে অন্তত দুই থাই সেনা আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে থাই সেনাবাহিনী।

এক বিবৃতিতে থাই সেনাবাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে কম্বোডিয়ার সেনারা সি সা কেত প্রদেশের থাই ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আকস্মিকভাবে গুলি ছোড়ে। এতে দুজন থাই সেনা আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের পায়ে গুলি লাগে এবং অন্যজন বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন। হামলার পর থাই সেনাবাহিনী পাল্টা জবাব দিলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে গুলি বিনিময় অব্যাহত থাকে। স্থানীয় সময় বিকেল ২টা ৫০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংঘাত থামার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য থাইল্যান্ড চারটি সীমান্তবর্তী প্রদেশবুরি রাম, সুরিন, সি সা কেত এবং উবন রাতচাথানিথেকে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। থাই সেনা সীমান্তরক্ষী বাহিনী দ্রুত উদ্ধার স্থানান্তর তৎপরতা চালায় যাতে সাধারণ মানুষের হতাহতের ঝুঁকি কম থাকে।

এর আগে রোববারই জাতিসংঘে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় থাইল্যান্ড। অভিযোগে বলা হয়, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের থাই ভূখণ্ডে গোপনে বিস্তীর্ণ এলাকায় ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী। এসব ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন থাই নাগরিক চীনা শ্রমিক আহত হয়েছেন। থাইল্যান্ড জাতিসংঘকে এসব ঘটনার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। অভিযোগ জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সি সা কেতে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, উভয় দেশের ভেতরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা মোতায়েন এবং ঐতিহাসিক বিবাদের জেরে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সীমান্তে থাকা প্রাচীন মন্দির ভূখণ্ড নিয়ে বহু দশকের বিরোধ এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি, যা সময় সময় সংঘাতের আকারে প্রকাশ পায়।

এর আগে গত জুলাই মাসে ১৫ বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে ব্যাপক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া। পাঁচদিনের সেই সংঘাতে দুই দেশের মোট ৩২ জন নাগরিক নিহত হন এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে পুনরায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

থাই সরকার জানায়, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে তারা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। তবে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখার ঘটনা যেমন উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তেমনি আকস্মিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এখনো বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকলে তা পুরো অঞ্চলেই অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় পর্যটন, বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : ব্যাংকক পোস্ট, রয়টার্স

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর