ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

খালেদা জিয়ার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি নেই


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১২:৫৩ পিএম

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার তেমন উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও তাঁর মূল শারীরিক জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র এবং ফুসফুসের জটিলতা ওঠানামা করছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে তাকে কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে জড়িত একটি সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকেরা সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর সময় আরও দুই দিন পিছিয়েছেন। দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার বিদেশ যাত্রা মূলত আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। সূত্রের মতে, শনিবার রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তার অবস্থায় নতুন কোনো উন্নতি বা অবনতি লক্ষ্যযোগ্য নয়; সবকিছু প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর শনিবার ও রোববার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার আবারও বোর্ড বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সর্বশেষ পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনায় নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হতে পারে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষভাবে তারা খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিসের ওঠানামা, কিডনির কার্যকারিতা এবং হৃদ্‌যন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ফুসফুসের পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। লন্ডন থেকে ঢাকায় আসার পর থেকে তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে রয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়, আবার খুব অবনতিও হয়নি। নতুন কোনো জটিলতা দেখা না দিলেও মূল সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে না আসায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। মেডিকেল বোর্ডের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা কখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সর্বশেষ পরীক্ষায় কিডনি এবং ফুসফুসের অবস্থার কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে, তবে সামগ্রিক ঝুঁকি কমাতে এটি যথেষ্ট নয়।

এই অনিশ্চিত অবস্থার কারণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। শুরুতে জানানো হয়েছিল ৫ ডিসেম্বর লন্ডনে নেওয়া হবে। পরে ৭ ডিসেম্বর এবং রাতে ৯ ডিসেম্বরের সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া হয়, তবে এখনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থার কারণে দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর