ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী আরব উপসাগরে কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা তাহসিফের সঙ্গে বারে দেখা যাওয়া জেরিকা দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

১ লাখ নতুন ভ্যাট নিবন্ধনের লক্ষ্য এনবিআরের


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৪৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী ১০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর দেশব্যাপী বিশেষ ভ্যাট নিবন্ধন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে। এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ১ লাখ নতুন ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান করা। বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৪ হাজার।

প্রতি বছরের ন্যায় আগামী ১০ ডিসেম্বর ‘ভ্যাট দিবস’ পালন করবে এনবিআর। এর সঙ্গে সংযুক্ত করে ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ভ্যাট সপ্তাহ’ আয়োজন করা হবে। এবারের ভ্যাট দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘সময়মত নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব’। এর মাধ্যমে করদাতাদের সচেতন করা এবং করফাঁকি কমানো এনবিআরের মূল লক্ষ্য।

বিগত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের ৩৮ শতাংশ ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভ্যাট আদায় বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে অনিবন্ধিত ব্যবসা, পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের অভাব, রেয়াত-শৃঙ্খল কার্যকর না হওয়া, অতিরিক্ত অব্যাহতি, ম্যানুয়াল অডিট ব্যবস্থা, ই-কমার্স ও উদীয়মান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ভ্যাট সংগ্রহে অসুবিধা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এনবিআর ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন নিবন্ধন, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-সহগ, অনলাইন পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ই-অডিট এবং ভ্যাট স্মার্ট চালান। এছাড়া, ভ্যাট ফাঁকি কমাতে ‘রিস্ক-বেসড’ অডিট সিস্টেমও কার্যকর করা হয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, করদাতাদের স্বেচ্ছায় কর প্রদান নিশ্চিত করা এবং কর ফাঁকি কমানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে করদাতাদের নিবন্ধন ও ভ্যাট প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। ফলে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে।

ভ্যাট নিবন্ধন ক্যাম্পেইন সফল হলে ব্যবসায়ীরা নিয়মিতভাবে ভ্যাট প্রদান নিশ্চিত করতে পারবে। এটি শুধু সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করবে না, বরং করদাতাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও সঠিক ব্যবসায়িক প্র্যাকটিস নিশ্চিত করবে। এনবিআর আশা করছে, দেশের ১৬টি জেলার ব্যবসায়ীরা এই ক্যাম্পেইনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং নতুন ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে করদাতাদের জন্য সুবিধা ও সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা অনলাইনে নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল ও পেমেন্টের জন্য সহজ প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে পারবেন। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভ্যাট সপ্তাহ এবং বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

সর্বশেষে, এনবিআর ভ্যাট নিবন্ধন ও সঠিক ভ্যাট প্রদানের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর