সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 253
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী, যারা সিএইচসিপি পদে কর্মরত, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দায়িত্বরত এই কর্মীরা গত দেড় বছর ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত। উপজেলার ২৯ জন সিএইচসিপির মধ্যে ২৩ জন রাজস্বভুক্ত, যারা গত ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ জন দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বেতন থেকে বঞ্চিত।
তাড়াশ পৌর এলাকার কাউরাইল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শাহিন আলম জানান, ছয় সদস্যের পরিবারের জীবন ধারণের জন্য সামান্য এই বেতনই নির্ভরতার মূল ভিত্তি। বেতন বন্ধ থাকার ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালানো তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সোলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ফিরোজ আহমেদসহ অন্যদের কথাও একই ধরনের দুরবস্থার। কর্মসূচির কারণে অন্য কোনো কাজ করার সুযোগ না পাওয়ায় তারা কঠিন জীবনের সঙ্গে জুড়িয়ে আছেন। একাধিক সিএইচসিপি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এরফান আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, সিএইচসিপিদের বেতন একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিশোধ হয়। শুধু তাড়াশ নয়, সারা দেশে এ ধরনের বেতন বঞ্চনার ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে এই সমস্যার সমাধান হবে এবং তারা আবারও সম্মানজনক বেতন পাবেন।
আকাশজমিন / আরআর