ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রোকেয়া দিবসে সাতক্ষীরায় ৫ অদম্য নারীকে সম্মাননা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:১৯ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরায় উদযাপিত হলো রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ–২০২৫ এর বিশেষ আয়োজন, যেখানে সমাজ, পরিবার ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করা অদম্য নারীদের সম্মান জানানো হয়। জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান নারীর ক্ষমতায়নের শক্ত বার্তা ছড়িয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের অসাধারণ অবদান রাখা পাঁচজন নারী এবং উপজেলা পর্যায়ে আরও একজন নারীকে প্রদান করা হয় “শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী সম্মাননা–২০২৫”।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “নারী-কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা করিকরি” প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর উপধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডবলু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরাসহ সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। রোকেয়া দিবসের চেতনায় নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সমাজ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ সময়ের দাবি।

সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পান। “ক”—অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে সম্মাননা পান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কাটিয়া লস্করপাড়ার মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে রায়হাতুল জান্নাত রিমি। “খ”—শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে সম্মাননা পান সাতক্ষীরা সদরের বাগানবাড়ীর শেখ মিজানুর রহমানের স্ত্রী গুলশান আরা বেগম। “গ”—সফল জননী নারী হিসেবে সম্মাননা পান লাবসার কাজী সোহেল উদ্দীনের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা বেগম। “ঘ”—নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে উঠে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী হিসেবে সম্মাননা পান শ্যামনগর উপজেলার পরানপুর গ্রামের মো. মাহাবুব রহমানের কন্যা মেরিনা খাতুন। “ঙ”—সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী হিসেবে সম্মাননা পান সাতক্ষীরা সদরের মিল বাজার এলাকার মো. আবুল কালাম শাহ’এর কন্যা মোহিনী পারভীন। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে সম্মাননা পান খুকুমণি। উল্লেখ করা হয়, জেলা পর্যায়ে পাঁচজন এবং উপজেলা পর্যায়ে পাঁচজন নারী সম্মাননা পেয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন জেলা পর্যায়ের তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত আছেন।

সম্মাননা গ্রহণের পর রায়হাতুল জান্নাত রিমি বলেন, “পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল থাকলে নারীরা যে কোনো বাধা অতিক্রম করতে পারে।” গুলশান আরা বেগমের মতে, “নারীর উন্নতির মূল চাবিকাঠি শিক্ষা।” লুৎফুন্নেছা বেগম জানান, “সন্তানদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।” মেরিনা খাতুন বলেন, “জীবনের কঠিন সময় আমাকে হার মানাতে পারেনি।” আর মোহিনী পারভীন বলেন, “সমাজের জন্য কাজ করা আমার নেশা। এই সম্মান আমাকে আরও উৎসাহিত করবে।” খুকুমণি বলেন, “আমি সাধারণ মানুষ, কিন্তু এই স্বীকৃতি আমাকে বিশ্বাস করায় নারীরা চাইলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”

বক্তারা আরও বলেন, নারীর সক্ষমতা, প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ইতিবাচক সহযোগিতা অদম্য নারীদের পথচলা আরও সমৃদ্ধ করে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর