ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী আরব উপসাগরে কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা তাহসিফের সঙ্গে বারে দেখা যাওয়া জেরিকা দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

রোকেয়া দিবসে সাতক্ষীরায় ৫ অদম্য নারীকে সম্মাননা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:১৯ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরায় উদযাপিত হলো রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ–২০২৫ এর বিশেষ আয়োজন, যেখানে সমাজ, পরিবার ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করা অদম্য নারীদের সম্মান জানানো হয়। জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান নারীর ক্ষমতায়নের শক্ত বার্তা ছড়িয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের অসাধারণ অবদান রাখা পাঁচজন নারী এবং উপজেলা পর্যায়ে আরও একজন নারীকে প্রদান করা হয় “শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী সম্মাননা–২০২৫”।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “নারী-কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা করিকরি” প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর উপধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডবলু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরাসহ সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। রোকেয়া দিবসের চেতনায় নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সমাজ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ সময়ের দাবি।

সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পান। “ক”—অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে সম্মাননা পান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কাটিয়া লস্করপাড়ার মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে রায়হাতুল জান্নাত রিমি। “খ”—শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে সম্মাননা পান সাতক্ষীরা সদরের বাগানবাড়ীর শেখ মিজানুর রহমানের স্ত্রী গুলশান আরা বেগম। “গ”—সফল জননী নারী হিসেবে সম্মাননা পান লাবসার কাজী সোহেল উদ্দীনের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা বেগম। “ঘ”—নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে উঠে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী হিসেবে সম্মাননা পান শ্যামনগর উপজেলার পরানপুর গ্রামের মো. মাহাবুব রহমানের কন্যা মেরিনা খাতুন। “ঙ”—সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী হিসেবে সম্মাননা পান সাতক্ষীরা সদরের মিল বাজার এলাকার মো. আবুল কালাম শাহ’এর কন্যা মোহিনী পারভীন। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে সম্মাননা পান খুকুমণি। উল্লেখ করা হয়, জেলা পর্যায়ে পাঁচজন এবং উপজেলা পর্যায়ে পাঁচজন নারী সম্মাননা পেয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন জেলা পর্যায়ের তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত আছেন।

সম্মাননা গ্রহণের পর রায়হাতুল জান্নাত রিমি বলেন, “পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল থাকলে নারীরা যে কোনো বাধা অতিক্রম করতে পারে।” গুলশান আরা বেগমের মতে, “নারীর উন্নতির মূল চাবিকাঠি শিক্ষা।” লুৎফুন্নেছা বেগম জানান, “সন্তানদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।” মেরিনা খাতুন বলেন, “জীবনের কঠিন সময় আমাকে হার মানাতে পারেনি।” আর মোহিনী পারভীন বলেন, “সমাজের জন্য কাজ করা আমার নেশা। এই সম্মান আমাকে আরও উৎসাহিত করবে।” খুকুমণি বলেন, “আমি সাধারণ মানুষ, কিন্তু এই স্বীকৃতি আমাকে বিশ্বাস করায় নারীরা চাইলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”

বক্তারা আরও বলেন, নারীর সক্ষমতা, প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ইতিবাচক সহযোগিতা অদম্য নারীদের পথচলা আরও সমৃদ্ধ করে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর