রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
চলনবিলের বিস্তৃত ফসলি মাঠে আগাম জাতের সরিষার হলুদ ফুল এখন সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। শিশির ভেজা হলুদ পাপড়িতে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন দুলছে। তাড়াশ উপজেলা সহ চলনবিলের নয়টি উপজেলা উত্তরাঞ্চলের মৎস্য ও শস্যভাণ্ডার হিসেবে সুপরিচিত। এখানকার উৎপাদিত মাছ, সবজি, চাল-ডাল ও সরিষার সুনাম দীর্ঘদিনের। প্রচলিত কৃষিপণ্যের দাম না পাওয়ায় এবং সরিষা চাষে কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা এখন সরিষার আবাদে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে গত মৌসুমে স্থানীয় হাট-বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে চাষের পরিমাণ আরও বেড়েছে।
সরিষার হলুদ ফুলে এখন দিগন্তজোড়া মাঠ ভরে গেছে। কৃষকদের আশা, এবারও সরিষার বাম্পার ফলন হবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে তাড়াশ উপজেলার ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতিমধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তেলজাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর তাড়াশ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৯৮১০ জন কৃষককে প্রণোদনার অংশ হিসেবে বিনা মূল্যে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। দেশে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সরিষা চাষে ব্যয় কম হওয়ায় কৃষকরা এ আবাদে আরও আগ্রহী হয়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের একাংশে এখনো জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। তবে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে রবিশস্য আবাদ করা সম্ভব নয়, সেখানে আগাম জাতের সরিষার ফুল মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মৌমাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মধু সংগ্রহে, আর এই দৃশ্য কৃষক ও দর্শনার্থীদের মন জয় করছে। স্থানীয় কৃষকদের বেশিরভাগই বিনা-১৪ জাতের সরিষা চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে উফশী জাতের সরিষার ফলন ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত হয় এবং বপণের ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়।
তাড়াশ গ্রামের সরিষা চাষি মোহাম্মদ আলী বলেন, “খরচ কম, পরিশ্রম কম, সময়ও কম লাগে। আবার বাজারে দামের অবস্থাও ভালো। তাই সরিষা অত্যন্ত লাভজনক ফসল।” তিনি জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় ৬–৮ মণ সরিষা ফলন আশা করছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ সরিষা চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের রানীদিঘী গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানী জানান, “এ বছর ৬ বিঘা সরিষা আবাদ করেছি। গাছ বড় হয়ে এখন ফুল আসছে। তেলের দাম বেশি হওয়ায় সরিষারও ভালো দাম পাব বলে আশা করছি। সরিষা তুলে ধান লাগানো যায় এবং ধানে সারও কম লাগে, তাই এই আবাদটা খুবই লাভজনক।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, “তাড়াশ উপজেলায় ১০৩১০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ পর্যন্ত সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা একটি উদ্বৃত্ত ফসল। সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারলে কৃষকরা ভালো লাভবান হবে। এজন্য উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের সহায়তা করছে।”
আকাশজমিন / আরআর