ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

সাত দফা দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৫৯ পিএম

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা সাত দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) কলেজ মাঠে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যাপক উপস্থিতি দেখান।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা নানামুখী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা ২০১৮ সালের শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালাকে ‘কালো আইন’ উল্লেখ করে এর বাতিল দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, এই বিধিমালার কারণে বহু শিক্ষক-কর্মচারী অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং অসংখ্য পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে।

অবস্থান কর্মসূচি পূর্বক অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিরুন আল রশিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন তুষার, সোমা আক্তার, মিয়াজউদ্দিন ও ফয়েজ মোল্লা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বঞ্চিত শিক্ষকদের অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈষম্য দূর করে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদ-সোপান তৈরি করে পদোন্নতি দিতে হবে। একই সাথে ‘প্রি-প্রোটেকশন’ ও ‘কার্যকর চাকুরিকাল’ বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

এছাড়া বক্তরা আরও বলেন, একই কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরি স্থায়ীকরণে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে। অনেকের চাকুরি বদলির যোগ্যতা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে, যা অমানবিক ও অযৌক্তিক। তাদের অভিযোগ, একাধিক কলেজে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরিকাল সমন্বিত গণনার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। এ কারণে বহু যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারী প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বক্তাদের মতে, সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করে ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে, বড় আকারের আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। বক্তারা জানান, সাত দফা দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দাবি-দাওয়া জানিয়ে বহুবার আবেদন করা হলেও কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান আসেনি। ফলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত আলোচনায় বসে শিক্ষকদের ন্যায্য প্রয়োজনে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।

একজন শিক্ষক বলেন, “আমাদের দাবি কোনো বিলাসিতা নয়। আমরা শুধু ন্যায্য অধিকার, সম্মানজনক পদোন্নতি ও চাকুরির স্থায়িত্ব চাই।”
অন্যদিকে কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, একই পদে বছরের পর বছর থাকায় তাদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও মানসম্মত রাখতে হলে শিক্ষকদের উৎসাহ, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। অবিলম্বে তাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করলে কলেজের শিক্ষা পরিবেশ আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর