কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা নানামুখী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা ২০১৮ সালের শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালাকে ‘কালো আইন’ উল্লেখ করে এর বাতিল দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, এই বিধিমালার কারণে বহু শিক্ষক-কর্মচারী অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং অসংখ্য পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে।
অবস্থান কর্মসূচি পূর্বক অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিরুন আল রশিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন তুষার, সোমা আক্তার, মিয়াজউদ্দিন ও ফয়েজ মোল্লা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বঞ্চিত শিক্ষকদের অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈষম্য দূর করে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদ-সোপান তৈরি করে পদোন্নতি দিতে হবে। একই সাথে ‘প্রি-প্রোটেকশন’ ও ‘কার্যকর চাকুরিকাল’ বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
এছাড়া বক্তরা আরও বলেন, একই কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরি স্থায়ীকরণে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে। অনেকের চাকুরি বদলির যোগ্যতা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে, যা অমানবিক ও অযৌক্তিক। তাদের অভিযোগ, একাধিক কলেজে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরিকাল সমন্বিত গণনার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। এ কারণে বহু যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারী প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তাদের মতে, সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করে ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে, বড় আকারের আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। বক্তারা জানান, সাত দফা দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দাবি-দাওয়া জানিয়ে বহুবার আবেদন করা হলেও কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান আসেনি। ফলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত আলোচনায় বসে শিক্ষকদের ন্যায্য প্রয়োজনে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও মানসম্মত রাখতে হলে শিক্ষকদের উৎসাহ, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। অবিলম্বে তাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করলে কলেজের শিক্ষা পরিবেশ আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।