ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ইউরোপের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হচ্ছে


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:১৭ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন নীতি কঠোর করার বিষয়ে সব সদস্য রাষ্ট্র ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চলমান সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ দ্রুত তুলে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কখন তুলে নেওয়া হবে, তা তিনি পরিষ্কার করেননি।

সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তা ও জোটভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর হওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ইইউর বাইরের কোনও দেশে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র তৈরি করা

  • প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নির্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত ও গতিশীল করা এবং আটকের মেয়াদ বৃদ্ধি

  • নিরাপদ তৃতীয় দেশ এবং নিরাপদ উৎস দেশের তালিকা তৈরি করা

  • ৪৩ কোটি ইউরোর সংহতি তহবিল গঠন

  • ২১ হাজার অভিবাসী স্থানান্তরে পৃথক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

  • অভিবাসী স্থানান্তর, আর্থিক অনুদান বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সংহতি কার্যকর করা

  • অনিয়মিত অভিবাসী আগমনে সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি ও স্পেনকে সর্বোচ্চ চাপের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা

বৈঠকের পরপরই জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মাইনৎসে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ম্যার্ৎস বলেন, “এই পরিকল্পনার অর্থ হলো আমরা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে ইউরোপের বহিঃসীমান্তে স্থানান্তর করতে পারব।”

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মানির পূর্ববর্তী চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস প্রতিবেশী ৯টি দেশের সঙ্গে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। পরে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মেয়াদ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রক্ষণশীল দল সিডিইউ-সিএসইউ জোট সরকার গঠন করে। সিডিইউ নেতা ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস গত ৬ মে জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় তার সরকার।

জার্মান সরকার নানা সমালোচনা, প্রতিবেশী দেশগুলোর আপত্তি এবং আদালতের রায় সত্ত্বেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। সরকারের দাবি, এই নীতি কার্যকর হওয়ায় জার্মানিতে আশ্রয় আবেদন এবং অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট বলেন, ইইউজুড়ে অভিন্ন আশ্রয় ব্যবস্থা (সিইএএস) সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার পর সীমান্ত নিরাপত্তা কবে এবং কখন তুলে নেওয়া হবে, তা খতিয়ে দেখা হবে। শেনজেন জোন সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা দেয়। তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি বা অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য সদস্য রাষ্ট্ররা সীমান্তে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে।

ম্যার্ৎস জানিয়েছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সবসময় সীমিত সময়ের জন্য নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে একটি অভিন্ন আশ্রয়নীতি চালু হলে সেটিই কার্যকর হবে, যা সবসময়ই প্রত্যাশিত ছিল।

ইইউর নতুন পদক্ষেপ কার্যকর করতে হলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শিগগিরই সেই অনুমোদন মিলবে। দীর্ঘ সময়ের আলোচনা ও বিতর্কের পর ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন আশ্রয়নীতি প্রণীত হয়। এটি আগামী বছরের জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ম্যাপ, চার্ট এবং অন্যান্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা যায়, ইইউর নতুন নীতি অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ তৃতীয় দেশ এবং উৎস দেশের তালিকা তৈরির মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই সীমান্তে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি ও স্পেনকে সর্বোচ্চ চাপের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও আর্থিক ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানো হবে।

৪৩ কোটি ইউরোর সংহতি তহবিল গঠন এবং ২১ হাজার অভিবাসীর পৃথক স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশা করছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিবাসন সঙ্কটের সমাধান দ্রুত এবং কার্যকরভাবে হবে।

নতুন নীতি বাস্তবায়িত হলে, ইইউর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর