ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

বাংলাদেশে থামছেই না রোহিঙ্গা আগমন

এক মাসে নতুন ২,৭৩৮ জন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:২০ পিএম

কক্সবাজার প্রতিনিধি 

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ থামছে না। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, মাত্র এক মাসে দেশে নতুন করে ২ হাজার ৭৩৮ জন রোহিঙ্গা এসেছে। সংস্থাটির মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এক লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৮ জনে পৌঁছেছে। সেপ্টেম্বরের শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫১ জন এবং অক্টোবর পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪০। এই হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রোহিঙ্গা আগমন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ জন রোহিঙ্গা থাকা চিহ্নিত করা গেছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৯৩৭ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে নতুন রোহিঙ্গাদের আগমন বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের একটি বড় ঢল তৈরি হয়, যারা বর্তমানে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আছেন।

নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ নারী ও শিশু। এদের মধ্যে ১২ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যেমন—প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গুরুতর অসুস্থ রোগী, একক অভিভাবক, সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ঝুঁকিতে থাকা বয়স্করা।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী ও ৪৮ শতাংশ পুরুষ। এই তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে এবং সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার তৎপরতা অপরিহার্য।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নতুন আগতদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া ক্যাম্পে অতিরিক্ত জনসংখ্যা পরিচালনার জন্য যথাযথ অবকাঠামো ও সমন্বয় প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওগুলো সক্রিয়ভাবে এই আগমনের তথ্য যাচাই করছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। তবে, সীমান্ত থেকে রোহিঙ্গাদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আগমন আরও বাড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর