ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান

৭২ ঘণ্টা অতি সংকটাপন্ন, হাদির ব্রেন স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৫৭ এএম

মাথায় গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাদির মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত। এ অবস্থায় আগামী ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদির শারীরিক অবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, গুলিটি হাদির বাম কানের ওপর দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এই গতিপথে মস্তিষ্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেন স্টেম পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষ সহকারী জানান, ব্রেন স্টেম মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দনসহ জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই অংশে আঘাত পাওয়া মানে রোগীর অবস্থা অত্যন্ত জটিল ও আশঙ্কাজনক। তিনি বলেন, “এটি আমরা ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হিসেবে বিবেচনা করছি। আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। এই সময়ে কোনো ধরনের নতুন ইন্টারভেনশন করার সুযোগ নেই।”

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাদিকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, আপাতত রোগীকে বাঁচিয়ে রাখাই চিকিৎসকদের একমাত্র লক্ষ্য। এই মুহূর্তে তার অবস্থার উন্নতি নিয়ে কোনো ধরনের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একেবারে সব আশা শেষ হয়ে যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের সময় হাদির শরীরে ‘সাইন অব লাইফ’ লক্ষ্য করা গেছে। ওই সময় তিনি নিজের শ্বাস নেওয়ার কিছু প্রচেষ্টা করেছিলেন। এটুকুই আপাতত আশার একমাত্র জায়গা বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেন চিকিৎসকেরা।

অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান আরও জানান, অস্ত্রোপচারের আগেই হাদি একবার শকে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানান্তরের সময় নাক ও গলা দিয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। যদিও চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় সেই রক্তক্ষরণ আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো আশাব্যঞ্জক গল্প শোনানোর সুযোগ নেই। রোগীর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টা পার করতে পারলেই কেবল পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভাবা যাবে।

চিকিৎসকরা জানান, হাদির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিবার ও স্বজনদেরও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এদিকে হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দোয়া ও সহমর্মিতা জানানো হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর