ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, নেভাতে গিয়ে হামলার শিকার ফায়ার সার্ভিস রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র‍্যালি বিজেপির ৭০০ ই-রিকশার মধ্যে ৫টির বৈধ নিবন্ধন পাবেন গোলাম পরওয়ার: প্রতিমন্ত্রী

৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

মুক্তপ্রাণ মানবিক কবি আবদুল হাই মাশরেকী ছিলেন ভূমিপুত্র


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৩ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বাংলা গানের জনপ্রিয় ধারার নির্মাতা, কিংবদন্তি কবি ও গীতিকবি আবদুল হাই মাশরেকীর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “এসো গণতন্ত্র গড়ে তুলি নতুন দিনের, নতুন দিনের” শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্র ও মাসিক জনপ্রশাসন পত্রিকা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সভায় সভাপতিত্ব করেন চিত্রশিল্পী ও সমাজসেবী সন্তু সাহা। আলোচনা সভায় কবি আবদুল হাই মাশরেকীর জীবন, সাহিত্যকর্ম, সংগীতচর্চা এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় তার অনন্য অবদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. গোলাম শফিক—কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব; প্রফেসর গাউসুর রহমান—গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কবি; মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম—প্রাবন্ধিক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ; দৈনিক বাংলার সমাচারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ এবং মজিবুর রহমান—সভাপতি, উত্তরাস্থ ঈশ্বরগঞ্জ ফোরাম।

বক্তারা বলেন, আবদুল হাই মাশরেকী ছিলেন এক মুক্তপ্রাণ মানবিক কবি, যিনি সাহিত্যে ও সংগীতে মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি ছিলেন মাটির কাছাকাছি থাকা এক প্রকৃত ভূমিপুত্র, যিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তার সৃষ্টিকর্মের মূল উপজীব্য করেছেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, মানুষের প্রয়োজনে তিনি নিজের লেখা ও সৃষ্টিকর্ম বিনা পারিশ্রমিকে বিলিয়ে দিতেন, যা তার মানবিক ও উদার মানসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বক্তারা আরও বলেন, আবদুল হাই মাশরেকীর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত হবে। তার লেখা গান, কবিতা ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মকে গণতন্ত্র, মানবিকতা ও সামাজিক ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নাতে রাসুল পরিবেশন করেন গজলশিল্পী ওস্তাদ জামাল হাসান ও সহশিল্পীবৃন্দ। এই পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক ভক্তিপূর্ণ ও আবেগঘন আবহ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কবি গোলাম কাদের, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার আকবর সিরাজী, কবিপুত্র নঈম মাশরেকী, শহীদুল ইসলাম সেলিম এবং মো. রুহুল আমিন বাদল। তারা প্রত্যেকে কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ব্যক্তিগত জীবন, সাহিত্য সাধনা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার ভূমিকার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।

বক্তারা বলেন, আবদুল হাই মাশরেকী শুধু একজন কবি বা গীতিকবি নন, তিনি ছিলেন একটি সময় ও চেতনার প্রতিনিধি। তার জীবনদর্শন ও সাহিত্যকর্ম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আলোচনা সভার মাধ্যমে তার কর্ম ও আদর্শ নতুন করে স্মরণ করার আহ্বান জানান তারা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর