ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

মুক্তপ্রাণ মানবিক কবি আবদুল হাই মাশরেকী ছিলেন ভূমিপুত্র


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৩ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বাংলা গানের জনপ্রিয় ধারার নির্মাতা, কিংবদন্তি কবি ও গীতিকবি আবদুল হাই মাশরেকীর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “এসো গণতন্ত্র গড়ে তুলি নতুন দিনের, নতুন দিনের” শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্র ও মাসিক জনপ্রশাসন পত্রিকা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সভায় সভাপতিত্ব করেন চিত্রশিল্পী ও সমাজসেবী সন্তু সাহা। আলোচনা সভায় কবি আবদুল হাই মাশরেকীর জীবন, সাহিত্যকর্ম, সংগীতচর্চা এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় তার অনন্য অবদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. গোলাম শফিক—কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব; প্রফেসর গাউসুর রহমান—গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কবি; মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম—প্রাবন্ধিক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ; দৈনিক বাংলার সমাচারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ এবং মজিবুর রহমান—সভাপতি, উত্তরাস্থ ঈশ্বরগঞ্জ ফোরাম।

বক্তারা বলেন, আবদুল হাই মাশরেকী ছিলেন এক মুক্তপ্রাণ মানবিক কবি, যিনি সাহিত্যে ও সংগীতে মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি ছিলেন মাটির কাছাকাছি থাকা এক প্রকৃত ভূমিপুত্র, যিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তার সৃষ্টিকর্মের মূল উপজীব্য করেছেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, মানুষের প্রয়োজনে তিনি নিজের লেখা ও সৃষ্টিকর্ম বিনা পারিশ্রমিকে বিলিয়ে দিতেন, যা তার মানবিক ও উদার মানসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বক্তারা আরও বলেন, আবদুল হাই মাশরেকীর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত হবে। তার লেখা গান, কবিতা ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মকে গণতন্ত্র, মানবিকতা ও সামাজিক ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নাতে রাসুল পরিবেশন করেন গজলশিল্পী ওস্তাদ জামাল হাসান ও সহশিল্পীবৃন্দ। এই পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক ভক্তিপূর্ণ ও আবেগঘন আবহ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কবি গোলাম কাদের, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার আকবর সিরাজী, কবিপুত্র নঈম মাশরেকী, শহীদুল ইসলাম সেলিম এবং মো. রুহুল আমিন বাদল। তারা প্রত্যেকে কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ব্যক্তিগত জীবন, সাহিত্য সাধনা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার ভূমিকার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।

বক্তারা বলেন, আবদুল হাই মাশরেকী শুধু একজন কবি বা গীতিকবি নন, তিনি ছিলেন একটি সময় ও চেতনার প্রতিনিধি। তার জীবনদর্শন ও সাহিত্যকর্ম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আলোচনা সভার মাধ্যমে তার কর্ম ও আদর্শ নতুন করে স্মরণ করার আহ্বান জানান তারা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর