সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ফরেস্ট স্টেশনে সোমবার ‘সাউথ-এশিয়ান পিপলস ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘ফ্রম হিমালয় টু সুন্দরবনস: এগ্রোইকোলজি এ্যাজ ক্লাইমেট সলুশ্যন’ শীর্ষক আলোচনায় জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এগ্রোইকোলজির গুরুত্বারোপ করা হয়।
এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করে গ্রীন কোয়ালিশন সাতক্ষীরা। অনুষ্ঠানে নেপালের সোশ্যাল ওয়ার্ক ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি, গ্রীন কোয়ালিশনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, সিভিল সোসাইটির সদস্য, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এর প্রতিনিধিবৃন্দ, যুব স্বেচ্ছাসেবক ও কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
গ্রীন কোয়ালিশন সাতক্ষীরার উপদেষ্টা অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাস সভার সভাপতিত্ব করেন। বারসিক এর সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাগত বক্তব্য দেন। আলোচনায় নেপালের এগ্রোইকোলজি কোঅর্ডিনেটর আশিষ থানি, প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ভক্ত বাহাদুর খাটি, পারমাকালচার সেন্টারের চেয়ারপারসন দিলমায়া গুরুং, গ্রীন কোয়ালিশন সাতক্ষীরার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি ও বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার বিশেষ বক্তব্য রাখেন।
সংলাপে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পাশাপাশি নেপালের পাহাড়ি এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অভিন্ন ও ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের চিত্র তুলে ধরা হয়। স্থানীয় কৃষি জ্ঞান, প্রতিবেশীয় কৃষি পদ্ধতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, লবণাক্ততা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষের সুরক্ষায় এগ্রোইকোলজিভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। এগ্রোইকোলজির মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিকাশ, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, কৃষক-কৃষাণীদের নেতৃত্বে এগ্রোইকোলজির সম্প্রসারণ এবং নীতি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশসহ বিভিন্ন কার্যকরী প্রস্তাব সংলাপে গৃহীত হয়। উদ্বেগজনক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এগ্রোইকোলজি কৌশলগুলো কৃষি ও পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার ওপর আলোকপাত করা হয়।
আকাশজমিন / আরআর