চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিখোঁজের ৯ দিন পর ইছামতী খাল থেকে আবু সৈয়দ (৬৮) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে উপজেলার খাদ্যগুদাম সংলগ্ন খালে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনরা লুঙ্গি ও গলায় থাকা তাবিজ দেখে মরদেহটি আবু সৈয়দের বলে শনাক্ত করেন। আবু সৈয়দ উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পীরখাইন গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক চৌকিদারের বাড়ির মালেকুজ্জামানের ছেলে। তিনি আনোয়ারা থানাধীন কেজি ভবন এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পরিবারসহ বসবাস করতেন।
আবু সৈয়দের পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং এরপর থেকে মানসিকভাবে কিছুটা অসংলগ্ন আচরণ করতেন। গত ৯ ডিসেম্বর দুপুরে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে আনোয়ারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, আবু সৈয়দ কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। আজ তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে শোকাহত এবং উদ্বিগ্ন।
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “প্রাথমিকভাবে মরদেহটি নিখোঁজ আবু সৈয়দের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধার ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরই পরিবারের হাতে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং বৃদ্ধের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় সঙ্গতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। এলাকার মানুষ সচেতন হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ আশা প্রকাশ করেছেন যে, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর