ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে পুকুরের একাংশে ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু ভরাটের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের সাবেক স্টেট অফিসার শফিউল্লাহ তপন-এর। তিনি বর্তমানে অর্থমন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিউল্লাহ তপনের সঙ্গে একজন বিচারপতি ও একাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুকুরের এই অবৈধ ভরাট ও জমি দখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত সাবেক স্টেট অফিসার শফিউল্লাহ তপন কৃষি লিজ নিয়ে বালু ভরাটকে বৈধ দাবি করলেও বর্তমান রেলওয়ে স্টেট অফিসার শিমুল কুমার সাহা নিশ্চিত করেছেন, কৃষি লিজ থাকলেও সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন আইনত অবৈধ এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শফিউল্লাহ তপন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর সংগঠনের নামে পুকুরের ৪০ শতাংশ জমিতে কৃষি লিজের অনুমোদন দিয়েছেন। লিজের কাগজপত্র স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে নেই এবং কেউ সত্যিই তা চোখে দেখেননি। লিজ নেওয়া জমিতে ভৈরব সরকারি চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের একটি সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শফিউল্লাহ তপন রেলওয়ে বিভাগে এখন কর্মরত না থাকলেও, তাঁর সাবেক কর্মস্থল রেলওয়ের ডিইএন-২ আহসান হাবিবকে ফোন করে মাটি ভরাটের বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে ডিইএন-২ তাঁর অধীনে থাকা ভৈরবের আইডব্লিউ মোয়াজ্জেম হোসেনকে মাটি ভরাটের স্থান থেকে দূরে থাকার জন্য নির্দেশ দেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাশয় হিসেবে পরিচিত এই পুকুরটি জলাধারণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ড্রেজার ও বালু ভরাটের ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, জলাধারণ ক্ষমতা হ্রাস এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব সরকারি চাকরিজীবী এক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন, যুগ্ম সম্পাদক শাহে নোওয়াজ ও পরিছন্নতাকর্মীদের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রোকনসহ কয়েকজন পৌরসভার কর্মকর্তা ময়লা ও আবর্জনা ফেলে পুকুরপাড়ে জায়গা দখল করেছেন। পরে চাটায়ের বেড়া দিয়ে জায়গাটি ঘিরে দেওয়া হয়। সংগঠনটি ৪০ শতাংশ জমির কৃষি লিজ দাবি করলেও অন্তত দুইশ শতাংশ জায়গা ভরাটের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ডিসেম্বরের শুরু থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ড্রেজারে বালু ভরাট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। রেলওয়ে ওসি সাঈদ আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আইডব্লিউকে অবহিত করা হয়েছে। রেলওয়ের সার্ভেয়ার ফারুক বলেন, কৃষি লিজ থাকলেও পুকুর ভরাট করা যাবে না। ডিইএন-২ আহসান হাবিব জানিয়েছেন, এটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় স্টেট অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, কৃষি লিজ থাকলেও মাটি ভরাটের কোনও বিধান নেই এবং ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, প্রশাসন দ্রুত ড্রেজারের কাজ বন্ধ করে পুকুরপাড়কে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনুক এবং অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক, যাতে এ ধরনের অপকর্ম পুনরায় না ঘটে।
আকাশজমিন / আরআর