ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৫৬ ময়মনসিংহ–১১ ভালুকা সংসদীয় আসনের ভোটার সংখ্যা, নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা এবং মনোনয়ন দাখিল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। এতে আগ্রহী প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মনোনয়ন দাখিল প্রক্রিয়া সঠিক ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ–১১ ভালুকা আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন। ভোটার তালিকার কপি সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ট্রেজারি চালানের মূল্য ১০ হাজার টাকা। এছাড়া মনোনয়ন দাখিলের সময় প্রার্থীদের জন্য জামানতের ট্রেজারি চালানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বিশেষ শর্ত হিসেবে মোট ভোটারের এক শতাংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৫৮৭ জন ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত তালিকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাক্ষরের তালিকা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তুত না হলে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ–১১ ভালুকা আসনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত নির্বাচনি ব্যয় করতে পারবেন। এই সীমার বাইরে ব্যয় করলে তা নির্বাচন আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী, তাদের পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। মনোনয়ন ফরমে প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর নাম, ঠিকানা ও ভোটার নম্বর নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযুক্তি হিসেবে হলফনামা, আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, নির্বাচনি ব্যয়ের অর্থের উৎস সংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত করতে হবে। দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংগ্রহ ও জামানতের জন্য দেওয়া দুটি ট্রেজারি চালানের মূল কপি মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা আরও সতর্ক করে জানিয়েছেন, মনোনয়ন ফরমে কোনো ভুল তথ্য, স্বাক্ষরের ঘাটতি বা নির্ধারিত ঘরে তথ্য পূরণ না হলে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ফরম সংগ্রহের পর তাড়াহুড়া না করে ধীরে-সুস্থে সময় নিয়ে মনোনয়ন ফরম পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফরম পূরণে কোনো ধরনের অসুবিধা হলে নির্বাচন অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময় একজন প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তি একসঙ্গে উপস্থিত থাকতে পারবেন। এবারের নির্বাচনে অনলাইনের মাধ্যমে নয়, সরাসরি উপস্থিত হয়ে রিটার্নিং অফিসার অথবা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে।
সঠিকভাবে মনোনয়ন ফরম দাখিলের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইউএনও মোঃ ফিরোজ হোসেন, ভালুকা, ময়মনসিংহ এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার, ১৫৬ ময়মনসিংহ–১১ ভালুকা।
আকাশজমিন /
আরআর