সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছয় মাস আগে নির্মাণ করা ১৪০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজটির দুই পাশে প্রায় ৩৫০ মিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৩৫ লাখ ২২ হাজার ১৩৬ টাকা। এর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে জামালপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। এই ব্রিজ দিয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলার আদ্রা, চর রৌহা এবং পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ও যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে।
কিন্তু নির্মাণের ছয় মাস না যেতেই ব্রিজের দুইপাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। ফলে ব্রিজের উভয় পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও পথচারীরা গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় আলতাফ হোসেন, নাসিম আহাম্মেদ, বৃদ্ধা সমিরন বেওয়া ও শিক্ষার্থী সাকিবসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ব্রিজ নির্মাণের সময় থেকেই কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আপত্তি ছিল। তখন তারা বাধা দিলেও ঠিকাদার ফারুক চৌধুরীর লোকজন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালিয়ে যায়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করেছে বলেই ছয় মাসের মাথায় সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করছে। অনেক মানুষ ইতোমধ্যে গর্তে পড়ে আহত হয়েছেন। শুকনো মৌসুমেই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষা ও বন্যার সময় ব্রিজটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্রিজের দুইপাশের সংযোগ সড়ক সংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন অবস্থায় পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ বাস্তবায়ন করে।
তিনি আরও বলেন, সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে এবং তাদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তবে তারা পলাতক থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর