ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

আফগানিস্তানে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়েন রশিদ খান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৪৯ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের পথচলা মাত্র ১৬ বছরের। অল্প এই সময়ের মধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং প্রতিপক্ষের কাছে সমীহ জাগানিয়া দলে পরিণত হয়েছে। তবে এত সাফল্যের পরও একটি বড় আক্ষেপ রয়ে গেছে আফগান ক্রিকেটের—এখনও নিজেদের দেশে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায়নি তারা। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশের ভেতরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে আফগান ক্রিকেট দলের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খানের কথায়। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেনের সঙ্গে এক পডকাস্টে নিজের জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রশিদ খান জানান, আফগানিস্তানে তিনি সাধারণভাবে রাস্তায় হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাকে সব সময় বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চলাচল করতে হয়।

পডকাস্টে কেভিন পিটারসেন রশিদ খানের কাছে জানতে চান, কেন তাকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার করতে হয়। জবাবে রশিদ খান বলেন, ‘আফগানিস্তানের রাস্তায় আমি হাঁটতে পারি না। আমার বুলেটপ্রুফ গাড়ি আছে।’ পরে বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার করি। আপনি ভুল জায়গায় ভুল পরিস্থিতিতে নিশ্চয়ই পড়তে চাইবেন না। আফগানিস্তানে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। প্রত্যেকেই ব্যবহার করেন।’

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করার পর আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে তালেবান। এরপর থেকে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বিগত চার বছরে তালেবান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন রশিদ খান। বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও নারীদের অধিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান তিনি। এ কারণে তালেবান সরকারের সমালোচক হিসেবে একরকম চক্ষুশূলে পরিণত হন এই আফগান ক্রিকেটার।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে এক সময় ক্রিকেট খেলাটাই রশিদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। নিরাপত্তাহীনতা, নিষেধাজ্ঞা ও অস্থির পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলন কিংবা মাঠে নামা কঠিন হয়ে পড়ে। সে সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রশিদ খান বলেন, ‘আমি বাইরে বের হতে পারতাম না। ক্রিকেট খেলার কোনো অনুমতি ছিল না।’ এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন তিনি।

রশিদ আরও বলেন, ‘আফগানিস্তানের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল।’ নানা বাধা, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও সেই স্বপ্নই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। আজ তিনি শুধু আফগানিস্তানের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার হিসেবে পরিচিত।

আফগান ক্রিকেট দলের উত্থান যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি দেশের বাস্তবতা রশিদ খানের মতো ক্রিকেটারদের জীবনকে করেছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর