নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার পূর্বাচল উপশহর ও মুড়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রুবেল খান এবং তারাবো পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মফিজ।
পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে এই দুই নেতা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পূর্বাচল উপশহর ও মুড়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
রূপগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার রুবেল খান দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম মফিজ তারাবো পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে গ্রেফতার হওয়া দুই নেতার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার পর থেকেই তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। যারা সহিংসতা, নাশকতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেফতার হওয়া দুই নেতার বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ উত্তপ্ত ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অনেকেই গ্রেফতারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একে একে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
এদিকে গ্রেফতারের পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি বলে মনে করছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। আগামী দিনে তদন্তে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।