ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ নিয়ে বৈঠক আজ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৫৪ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজকে একীভূত করে নতুন একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে আজ বৈঠকে বসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশের কাঠামো, একাডেমিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে, কীভাবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সুবিধাগুলো কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে— এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অধ্যাদেশের আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়েও আলোচনা হবে।

খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ প্রস্তুতের কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে পাওয়া মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের স্বার্থ সমানভাবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, শিক্ষার্থীরা যেন একটি সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারেন, সেটিই অধ্যাদেশ প্রণয়নের মূল লক্ষ্য। এ কারণে তাড়াহুড়া না করে ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়।

উল্লেখ্য, রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগকে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে এসব কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কার্যক্রম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে একাডেমিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক জটিলতার কারণে সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও প্রত্যাহার করা হয়।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম আরও স্বতন্ত্র ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাপদ্ধতি, সেশনজট নিরসন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা হলে রাজধানীর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। তবে অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নেওয়া এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করছেন।



এ সম্পর্কিত আরো খবর