অনলাইন রিপোর্টার
বাংলাদেশের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের (বিচার শাখা-৪) প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫। যদিও তা মঙ্গলবারের হলেও সরকারিভাবে বুধবার প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফার ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ শপথ গ্রহণের দিন থেকে কার্যকর হবে।
জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে নাম লিখান। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে হাইকোর্টে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তার হাইকোর্টের নিয়োগ স্থায়ী হয়। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি অনার্স ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রিও সম্পন্ন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ আইনজীবী ও বিচারিক কর্মজীবন জুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টে বহুবিধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব দেশের বিচারব্যবস্থার সুসংগঠন, কার্যকারিতা ও আইনের শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ন্যায়বিচারের মান আরও উন্নত হবে এবং দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে।
জুবায়ের রহমান চৌধুরীর এই নিয়োগ সুপ্রিম কোর্টের উচ্চতর পদে অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করছে। তাঁর শিক্ষা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
তিনি বহু শিক্ষামূলক ও আইনসংক্রান্ত প্রকাশনা করেছেন। বিচারক হিসেবে তাঁর ন্যায্য ও নিরপেক্ষ মনোভাব তাঁকে বিচারিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সমাদৃত করেছে। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার উপর তাঁর নেতৃত্বের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়পরায়ণ ও দক্ষ নেতৃত্বের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরে তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারণ ও সুসংগঠিত আদালত পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
আকাশজমিন / আরআর