রাজধানীর মগবাজারে ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে সিয়াম (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ভবনের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম একটি গাড়ির ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে একটি শক্তিশালী ককটেল নিচে নিক্ষেপ করা হয়। ককটেলটি সরাসরি সিয়ামের মাথার ওপর পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেন, ফ্লাইওভার থেকে কে বা কারা ককটেল নিক্ষেপ করেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ককটেলটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং সরাসরি নিহত যুবকের মাথার ওপর পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। শক্তিশালী ককটেলের আলামত সংগ্রহের জন্য বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলের পাশের ফারুক চা স্টলের মালিক ফারুক বলেন, সিয়াম প্রায়ই তার দোকানে চা খেতে আসত। ঘটনার দিনও সে চা খাওয়ার জন্য দোকানে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওপর থেকে একটি ককটেল পড়ে বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তার মাথার মারাত্মক ক্ষতি হয়।
নিহত সিয়ামের ছোট ভাই সিজান বলেন, তার ভাই জাহিদ কার ডেকোরেশন দোকানে কাজ করত। দোকান থেকে নাস্তা কিনতে বের হয়ে সে চায়ের দোকানে যায়। চা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ককটেল বিস্ফোরণে তার ভাই নিহত হয়। এমন আকস্মিক ঘটনায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
সিজান আরও জানান, তাদের বাড়ি খুলনা জেলার দৌলতপুর থানা এলাকায়। বর্তমানে সিয়াম মগবাজার এলাকায় বসবাস করছিল। পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় তার ওপর অনেক দায়িত্ব ছিল।
ঘটনার পর মগবাজার এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। এলাকাবাসী জনবহুল স্থানে এ ধরনের নাশকতামূলক ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
আকাশজমিন / আরআর