ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:১৬ পিএম

নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। টানা তিন দিন আলোচনা শেষে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসান হলো।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। চলতি মাসে নতুন করে দুই দেশের মধ্যে আন্তসীমান্ত সংঘাত শুরু হয়। এতে গত জুলাইয়ে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। সাম্প্রতিক এই সংঘাতে উভয় দেশের ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

শনিবার দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরের পরমুহূর্ত থেকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা (স্থানীয় সময়) থেকে কার্যকর হবে। যুদ্ধবিরতির আওতায় সাধারণ নাগরিক, নাগরিক অবকাঠামো এবং প্রতিপক্ষের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলাসহ সব ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ থাকবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাত্তাফোন নারকফানিত এবং কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী টি সেইহা। চুক্তি স্বাক্ষরের পর উভয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী করমর্দন করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০ দিন ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটে।

চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পার হলে থাইল্যান্ড আটক থাকা ১৮ জন কম্বোডিয়ান সৈন্যকে মুক্তি দেবে। একইসঙ্গে উভয় দেশ এমন কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে, যা উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া উত্তেজনা প্রশমনের স্বার্থে মিথ্যা তথ্য প্রচার এড়িয়ে চলার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের পর্যবেক্ষকদের একটি দল দায়িত্ব পালন করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য উভয় দেশ খোলা যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকায় মাইন অপসারণ এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে দুই দেশের সীমান্তবর্তী বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় চলমান লড়াই বন্ধ রাখতে দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত আলোচনা শুরু হয়। তিন দিনের আলোচনার পরই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয় দেশই আসিয়ানের সদস্য।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়া বিবদমান দুই দেশকে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছিল। গত জুলাই মাসে এই তিন দেশের মধ্যস্থতায় পাঁচ দিনের সংঘাত থামাতে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সংঘাতের মূল কারণ ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন মন্দিরগুলোকে উভয় দেশ নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর