অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে ব্যান্ড ওয়ারফেজ পরিবেশন করেছিল। দ্বিতীয় দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন নগরবাউল খ্যাত জেমস। কনসার্ট শুরুর আগেই বহিরাগতদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। আয়োজক কমিটি বারবার শান্ত থাকার নির্দেশ দিলেও কিছু লোক দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ইটপাটকেল ছোড়ার ফলে অনুষ্ঠান তৎক্ষণাত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শ্রাবণ্য জানান, তিনি মঞ্চে র্যাফেল ড্র পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ একটি বড় ইট তার সামনে এসে পড়ে। তাঁকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। তরুণরা বহিরাগতদের থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সবাই আতঙ্কিত হয়।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ উপস্থাপক জীবনে এরকম অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি। এটা আমার জীবনের ভয়াবহ ঘটনা। আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি, তাই এ ধরনের ঘটনার কোন সমর্থন হয় না।’
আয়োজকরা নিরাপত্তায় কোনও ঘাটতি করেননি বলে জানিয়ে শ্রাবণ্য বলেন, ‘স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজনটি খুব রঙিন ছিল। প্রথম দিন অনুষ্ঠানও ছিল সফল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে যা ঘটলো তা দুঃখজনক।’
প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে শ্রাবণ্য জানান। ওই বিশৃঙ্খলায় ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়, অনেকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তিন ঘণ্টা বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের মধ্যে সবাই সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। অবশেষে আয়োজকরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।
শ্রাবণ্য বলেন, ‘অর্থ কখনোই মানসিক ক্ষত সারাতে পারে না। আহতদের কষ্টের মুল্য টাকা দিয়ে শোধ করা যায় না। যারা ভালোবাসা, আশা ও সংগীতের টানে এসেছিলেন, তাদেরকে কেবল ভয় আর বিষণ্নতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক।’