চট্টগ্রামের শীতার্তদের পাশে মানবিক ডিসি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। গতরাতে শহরে তাপমাত্রা নেমে আসে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। ঘরের মানুষদের জন্য কম্বল বা গরম কাপড় থাকলেও ফুটপাত, রেলস্টেশন, ডিসি হিলের পাদদেশ কিংবা উন্মুক্ত স্থানগুলোতে থাকা ভাসমান মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ছিল না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, যিনি সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত, দিনভর নির্বাচনী ও প্রশাসনিক কাজ শেষে ঘুমাতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে গভীর রাতে তিনি ভাবতে লাগলেন—শহরের অসংখ্য অসহায় মানুষ যাদের রাতের ঘুমও কম্বল না থাকায় অস্থির। সেই চিন্তা তৎক্ষণাৎ কার্যক্রমে রূপ নেয়।
তিনি বাসা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে শীতবস্ত্র বিতরণের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে, রাতেই কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা করেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক নিজে উপস্থিত থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বসতবাড়িহীন মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। ডিসি হিল, কাজির দেউরি, সিআরবি, রেলস্টেশন এলাকা, শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন স্থান এবং মেহেদীবাগসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিসি নিজে ঘুরে ঘুরে ৫০০টি কম্বল বিতরণ করেন।
মেহেদীবাগ ও কাজির দেউরির ফুটপাতে দুই পথশিশু তীব্র শীতে কাঁপছিল। ডিসি তাদের আদর করে জড়িয়ে ধরেন। গভীর রাতে মানুষের চোখের সামনে জেলা প্রশাসককে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করতে দেখে অনেকেই বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন, কেউ কেউ চোখের কোণে কৃতজ্ঞতার অশ্রু লুকান।
শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন।
এই এক রাতের মানবিক উদ্যোগ শুধু শীত নিবারণই করেনি, বরং ভাসমান মানুষের মনে আস্থা ও বিশ্বাসের সঞ্চার করেছে—রাষ্ট্র এখনও তাদের কথা ভাবে। চট্টগ্রামের শীতল রাত যেন সেই বিশ্বাসের উষ্ণ সাক্ষী হয়ে রইল।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার এই মানবিক কার্যক্রম দেশের অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। শীতের রাতে কম্বল পাওয়া মানুষের চোখে যে স্বস্তি ফুটে উঠেছে, তা ডিসির মানবিক দৃষ্টান্তের জীবন্ত প্রমাণ।
আকাশজমিন / আরআর